
X
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘আমরা চেয়েছি একটা ব্যালট বিপ্লব। কিন্তু আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি কতিপয় রাজনৈতিক দল তাদের মার্কা বিলুপ্ত করে দিয়ে অন্য একটা দলে একীভূত হচ্ছে। যারা এক-দুটি সিটের জন্য দলকে বিক্রি করে দিচ্ছেন, তারা নিজেদের দলের প্রতি অন্যায় করেছেন। এর থেকে দুঃখজনক আর কিছুই হতে পারে না। আমরা চেয়েছি জুলাই বিপ্লব, কিন্তু কতিপয় রাজনৈতিক দল বুলেট বিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে অন্যায়ের বিপক্ষে, ইনসাফের পক্ষে লড়ে যেতে হবে। হাদি ভাই আমাদের শিখিয়েছেন, আমরা জান দেবো কিন্তু জুলাই দেবো না।’
ওসমান বিন হাদির হত্যার প্রতিবাদে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকালে ফেনী শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত শোক ও সংহতি সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা আমাদের হত্যা করতে চেয়েছিল, তারা এখনও আমাদের খুন করতে চায়। বাংলাদেশের রাজনীতি বদলে দেওয়ার জন্য আমরা যে সংস্কারের দাবি তুলেছি—জীবন গেলেও সেখান থেকে পিছপা হবো না। এখন যারা শহীদ ওসমান হাদিকে গিনিপিগ বলে বা তার নামটাও ঠিকমতো উচ্চারণ করতে পারে না—এই প্রজন্ম তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’
নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, ‘নিয়ন্ত্রিত লটারির মাধ্যমে যাদের ডিসি-এসপি বানানো হয়েছে, তাদের কেউ কেউ একটি দলের দালালি শুরু করেছে। কোনও দলের পক্ষপাত করলে বেনজীর-হারুনদের মতো পালাতে হবে। এখনও হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচারের কোনও দৃশ্যমান লক্ষণ নেই—এটি একটি অশনি সংকেত। প্রশাসন নিরপেক্ষ আচরণ না করলে আবারও তরুণ প্রজন্মের মুখোমুখি হতে হবে।’
নবগঠিত গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট ফেনী জেলা শাখার আয়োজনে শোক ও সংহতি সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন গণতান্ত্রিক সংস্কার জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। বিশেষ অতিথি ছিলেন এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া, এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার জোবায়ের আহমদ ভূঁইয়া, কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক মিয়া তৌফিক।
বিশেষ অতিথি এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে সংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ ভোট আর নতুন বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিতে হবে। যারা টাকার বিনিময়ে বা দু-একটা সিটের বিনিময়ে নিজেদের বিকিয়ে দেয়, তারা কখনও রাষ্ট্রের পক্ষের শক্তি হতে পারে না। আধিপত্যবাদের বিপক্ষে সর্বশক্তি নিয়ে লড়াই করে তরুণ প্রজন্ম ফ্যাসিস্ট হটিয়েছে, নির্বাচনেও ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখবে।’
সভায় প্রধান অতিথি মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘ন্যায়, ইনসাফ ও গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করতে যত ভয়ভীতিই দেখানো হোক না কেন, সন্ত্রাসবাদ ও আধিপত্যবাদের কাছে বাংলাদেশ আগেও কখনও মাথানত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। যারা ১৫ বছর জুলুমতন্ত্র চালিয়েছে, তাদের পালাতে ১৫ মিনিটও লাগেনি। ভবিষ্যতে যারা জনগণকে জিম্মি করতে চাইবে, তারাও জনরোষে পালাতে বাধ্য হবে।’
এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচন হবে হাদি হত্যাকাণ্ড বিচারের নির্বাচন, সংস্কারের নির্বাচন। যারা সংস্কার চান, হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার চান, তাদের উচিত বৃহত্তর মোর্চা করে সংস্কার আর বিচারবিরোধীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নেওয়া।’