ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘন কুয়াশার কারণে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত মোট ১০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অবতরণ করতে পারেনি। কুয়াশার কারণে রানওয়ে দৃশ্যমান না হওয়ায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ফ্লাইটগুলো বিকল্প বিমানবন্দরে পাঠানো হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ডাইভার্টের ফ্লাইটের সংখ্যা মোট ৮।
বিমানবন্দর সূত্র জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে আসা থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট, আজারবাইজানের বাকু থেকে সিল্কওয়ে ওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের দুবাই, জেদ্দা ও শারজাহ থেকে আসা তিনটি ফ্লাইট, কুয়েত থেকে জাজিরা এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট এবং তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে আসা টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কলকাতায় অবতরণ করেছে।
এ ছাড়া কুয়েত থেকে আগত কুয়েত এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট ব্যাংককে পাঠানো হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের রিয়াদ থেকে আসা একটি ফ্লাইট এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দাম্মাম থেকে আগত একটি ফ্লাইট চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ জানান, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে সকল ফ্লাইট অপারেশন পুনরায় স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে। বিলম্বিত ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসমূহ প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার ও হোটেল সুবিধা প্রদান করছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শুক্রবার রাতে প্রকাশিত সারাদেশের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকতে পারে। কুয়াশার কারণে কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে এবং সড়ক যোগাযোগ ও অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে শীতের অনুভূতিও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কলকাতার বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনায় কিছু বিলম্ব ঘটিয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইনগুলো ঘন কুয়াশার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সুবিধা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট।