প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:০৬ পিএম (ভিজিট : ১০৬)

X
বিয়ে শেষে নববধূসহ বরযাত্রী নিয়ে নৌকাযোগে বাড়ি ফেরার পথে যমুনা নদীর মাঝপথে ঘন কুয়াশার কারণে দিক হারিয়ে ফেলে। ফলে সারা রাত নদীতে আটকে থাকে বরযাত্রীবাহী নৌকাটি। পরে অন্য একটি নৌকার সহায়তায় শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে নৌকাটি নিরাপদে ঘাটের দিকে রওনা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কালীতলা ঘাট থেকে জমথল ঘাটের উদ্দেশে নৌকাটি ছেড়ে আসে। যমুনা নদীর মাঝামাঝি পৌঁছানোর পর হঠাৎ ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে যায়। এতে নৌকার চালক দিক নির্ণয় করতে না পেরে নদীর মাঝেই নৌকাটি থামিয়ে রাখতে বাধ্য হন। আটকে পড়া বরযাত্রীরা সবাই জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার তাতাপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
নৌকার যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে মাদারগঞ্জ উপজেলার তারতাপাড়া এলাকার সানোয়ার হোসেনের ছেলে নিলয় হাসান ছানির (২০) বিয়ে উপলক্ষ্যে ৪৭ জন বরযাত্রী বগুড়া শহরের সাবগ্রামের চারমাথা এলাকায় যায়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বর-কনেসহ সন্ধ্যা ৬টার দিকে বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কলীতলা ঘাট থেকে মাদারগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। বরযাত্রী বহনকারী নৌকাটি যমুনার মাঝ নদীতে পৌঁছলে ঘন কুয়াশার কারণে নৌকার মাঝি পথ হারিয়ে ফেলেন। রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত কুয়াশার মধ্যে পথ খুঁজে না পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল দিলেও তারা কোনো সাহায্য পাননি। কোনো উপায় না পেয়ে যমুনার মাঝ নদীতেই নোঙ্গর করে অবস্থান করছে নৌকাটি। নৌকায় ১৭ জন নারী ও ৯ জন শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে ৪ জন শিশুর বয়স ১ থেকে দেড় বছরের মধ্যে।
বরযাত্রী বজলুর রহমান বলেন, আমরা যখন যাত্রা করি তখন তেমন কুয়াশা ছিল না। কিন্ত যখন মাঝ নদীতে পৌঁছি তখন কুয়াশার কারণে আর কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। পরে ৯৯৯-এ কল দিই, কিন্ত কুয়াশার কারণে তারাও কোনো কিছু করতে পারছে না। ছোট বাচ্চা ও মেয়ে মানুষ নিয়ে অনেক কষ্টে আছি।
বরের বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম বাবু বলেন, একদিকে তীব্র শীত অন্যদিকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় আমাদের যাত্রীরা আতংকিত হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় কথা বলেও কোনো সমাধান পায়নি। এখন এই শীতের মধ্যে মাঝ নদীতে পলিথিন মোড়া দিয়ে অবস্থান করছি। মোবাইলের চার্জও শেষ হয়ে যাচ্ছে।
নৌকার মাঝি আবুল কাশেম বলেন, সাধারণ টর্চ লাইটের আলোতে মাত্র ৫ ফিট পর্যন্ত দেখা যায়। এখন কোন দিকে নৌকা নিয়ে যাবো তাও বুঝতেছি না। নদীতে পানিও কম, একটু গেলেই নৌকটা আটকা পড়ে। এজন্য নোঙ্গর করে বসে আছি। সম্ভবত সারিয়াকান্দি ও মাদারগঞ্জের জামথল ঘাটের মাঝামাঝি কোনো স্থানে আছি। এখন কিছুই করার নাই, সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করা লাগতে পারে।
এ সময় বরযাত্রীরা মোবাইল ফোনে বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের চেষ্টা করলেও রাতের ঘন কুয়াশার কারণে তাৎক্ষণিক কোনো সহায়তা পাওয়া যায়নি। ফলে নবদম্পতিসহ সবাই সারা রাত নৌকার মধ্যেই অবস্থান করেন।