
X
মানিকগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিবালয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের গৌরবময় ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে শুক্রবাvর দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রাক্তন প্রবীণ ও নবিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিশিষ্ট অতিথিদের অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
ঢাকা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
জানাযায়, ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত শিবালয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়টি ১১.৯ একর জমির ওপর অবস্থিত। দীর্ঘ শিক্ষাযাত্রায় প্রতিষ্ঠানটি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বিদ্যালয়টি ১৯৮৭ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয়করণ করা হয়।
উল্লেখ্য, এ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে প্রথমবারের মতো এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
সকালে বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি আরিচা ঘাটের গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয় মাঠে সমবেত হয়। সেখানে শান্তির প্রতিক সাদা পায়রা ও রংবেরঙের বেলুন উড়িয়ে জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে দেশর পতাকা উত্তোলন করা হয়।
এরপর মুলমঞ্চে শুরু হয় প্রাক্তন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের স্মৃতিচারণ। দীর্ঘ বছর পর পুরোনো সহপাঠীদের দেখা পাওয়ায় আনন্দে ক্যাম্পাস যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। কেউ তিন/চার দশক আগের ব্যাচ কেউ আবার নতুন প্রজন্মের। এদের সকলেই খুজে নেন নিজের পুরোনো সহপাঠীদের। আবেগ আর উল্লাস এ দুইয়ে এক ভিন্নমাত্র অনুভূতি বয়ে যায় দেহ-মনে।
দুপুরে মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেলে শুরু হয় মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করেন দেশের প্রখ্যাত বাঁশি বাদক জালাল উদ্দিন, জনপ্রিয় শিল্পী সাফওয়ান, পড়শী ও এ্যাসেস ব্যান্ডের শিল্পীরা। তাঁদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।
৭৫ বর্ষপূর্তি উৎসব ও পুনর্মিলনী উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মহিদুর রহমান কাজল জনকন্ঠকে বলেন, ৭৫ বছর পূর্তি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের জন্মদিন নয়, বরং শিবালয় এলাকার শিক্ষা, ঐতিহ্য ও সাফল্যের একটি স্মরণীয় অধ্যায়।
অনুষ্ঠানে অংশনেয়া বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী গ্রোব জনকন্ঠ শিল্প পরিবারের নির্বাহী পরিচালক মোঃ মজিবুর রহমান বলেন, এ উৎসব আমাদের কাছে শুধু স্মৃতি নয়, এটি একটি ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা, যা একটি স্বপ্নের পূর্ণ জাগরণ ও আগামী দিনের নতুন অঙ্গীকার। এ যেন এক মহা মিলনমেলা। যেখানে অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সবি যেন একই সুরে বাঁধা।