দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য আল-আমিন শেখ ওরফে রাজিবের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, মাদ্রাসার আড়ালে বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে একাধিক বিস্ফোরক দ্রব্য, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং সন্দেহজনক আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে একটি মাদ্রাসা ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য আল-আমিন শেখ ওরফে রাজিবের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।
শনিবার বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, মাদ্রাসার আড়ালে বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে একাধিক বিস্ফোরক দ্রব্য, বোমা তৈরির সরঞ্জাম এবং সন্দেহজনক আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, মাদ্রাসার পরিচালক আল-আমিন শেখ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সক্রিয় সদস্য। তিনি তামিম–সারোয়ার গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ঘটনার পর থেকে আল-আমিন পলাতক রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এ ঘটনায় আল-আমিনের স্ত্রী আছিয়া বেগম, তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তার ও আসমানী খাতুন নামে এক নারীসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে মাদ্রাসার আড়ালে বোমা তৈরির কর্মকাণ্ডে তাদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
২০১৭ সালে র্যাবের হাতে গ্রেফতার জঙ্গি আল-আমিন (মাঝে)
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, বিস্ফোরণের সময় আল-আমিনের স্ত্রী ও দুই সন্তান ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন এবং তারা আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আল-আমিনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অতীত রেকর্ড রয়েছে। ২০১৭ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার বক্তাবলী এলাকা থেকে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, বিস্ফোরক দ্রব্য, জিহাদি বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং মাদ্রাসার আড়ালে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে, গতকাল দুপুরের দিকে ওই মাদ্রাসায় হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই ভবনের চারপাশের দেয়াল উড়ে যায়। একতলা ভবনের দুটি কক্ষের দেয়াল সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং ছাদ ও বিমে ফাটল দেখা দেয়। পাশের আরও দুটি কক্ষেও ফাটল ধরেছে। এছাড়া সংলগ্ন একটি ভবনের দেয়াল ও জানালাও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।