
X
শনিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য তথা অর্থনৈতিক বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় দি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নিজস্ব ভবন কক্ষে সভায় প্রধান অতিথি সভাপতি আঃ ওয়াহেদ বলেন, আজ দি চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় জেলার ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি অনুমোদিত হয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে
১. চাঁপাইনবাগঞ্জ থেকে সরাসরি ঢাকাগামী অন্তঃনগর রাত্রিকালীন ট্রেন চালু করতে হবে; যা চাঁপাইনবাগঞ্জ-ঢাকা এবং ঢাকা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত থাকতে হবে।
২. সোনামসজিদ স্থলবন্দর হতে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তা চার লেন করতে হবে।
৩. বারঘরিয়া হতে যাদুপুর-নয়াগোলা হয়ে আমনুরা পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ করে শহরের যানজট কমাতে হবে। এ জন্য নয়াগোলায় মহানন্দা নদীতে সেতু নির্মাণ করতে হবে।
৪. আমনুরা রেলস্টেশনের পাশে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড নির্মাণ করতে হবে।
৫. সোনামসজিদ স্থলবন্দর উন্নয়নের জন্য সাসেক প্রকল্পের ৩২০ কোটি টাকা দ্রুত অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে।
৬. রহনপুর রেলস্টেশনকে পূর্ণাঙ্গ রেলবন্দরের ঘোষণা দিতে হবে।
৭. বর্তমান ব্যাংক সুদের হার ব্যবসায়ীদের জন্য অস্বাভাবিক হওয়ায় পূর্বের মতো সিঙ্গেল ডিজিট সুদের হার নির্ধারণ করতে হবে।
৮. চাঁপাইনবাগঞ্জ শহরে যানজট কমানোর জন্য মহানন্দা নদীর ধার দিয়ে মহানন্দা সেতু হতে নয়াগোলা পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ করতে হবে।
৯. চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের অধিকাংশ এলাকায় পানি আয়রন এবং আর্সেনিক যুক্ত হওয়ায় গোদাগাড়ীতে নবনির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত বর্ধিতকরণের মাধ্যমে এই সমস্যাটি সমাধান করা।
আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়নের জন্য এসব দাবি আপনাদের কাছে তুলে ধরলাম। আপনারা আপনাদের লেখনি ও প্রচারের মাধ্যমে বাস্তবায়নে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করবেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ বলেছেন, জেলার সদর উপজেলার আমনুরায় রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে। এর চারপাশে বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি রয়ে রয়েছে। কাজেই সেখানে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড বা বিশেষ অর্থনৈতিক জোন করা গেলে জেলা ও জেলার আশপাশের উৎপাদিত কৃষিপণ্য রেলযোগে পরিবহন করা সহজ হবে এবং এই জেলার ৫০ হাজার বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আমরা প্রতিবছর সোনামসজিদ স্থলবন্দর থেকে সরকারকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে থাকি। অথচ বন্দরটির অবস্থা শুরুতে যেমন ছিল, এখনো তেমন রয়ে গেছে। ফলে ভারতের মহদীপুরে তিন-চার দিন ভারতীয় ট্রাক পণ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে আমাদের ব্যবসায়ীদের লোকসান গুণতে হয়। এতে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। কাজেই সোনামসজিদ স্থলবন্দরকে একটি আধুনিক বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, কাস্টমস কর্মকর্তাদের আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় তারা বাইরে থেকে বন্দরে গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করেন। এর ফলে ২৪ ঘণ্টা পণ্য লোড-আনলোড করা যায় না। এছাড়াও তিনি রহনপুর রেলবন্দরকে একটি পূর্ণাঙ্গ বন্দর করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের পক্ষে আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবিগুলো উপস্থাপন করা হলো।