
X
চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে রাজধানীর কাওরান বাজারে মানববন্ধন চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে কাওরান বাজার সংলগ্ন কাঁচামালের আড়ত এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী ওই এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মানববন্ধনের সময় হামলার পর তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলাকারীদের তাড়া করেছেন। কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চালানো হয়। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ প্রশাসন আজ চাঁদাবাজদের পক্ষে কাজ করেছে। তারা বলছেন, চাঁদাবাজরা প্রতি মাসে মাসোহারা নেওয়ায় হামলার পরও মুখ বন্ধ রাখে।
কাওরান বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন করছিলাম। হঠাৎ আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পাশেই পুলিশের সদস্য ছিলেন, তবুও কীভাবে হামলা করা হলো তা আমরা জানতে চাই। তবে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে হামলাকারীদের প্রতিহত করছি।
এছাড়া, কয়েকজন ব্যবসায়ী আরও অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় চাঁদাবাজ আব্দুর রহমানের বাহিনী তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান উত্তপ্ত করা হয়েছে। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। এজাহার দিলে এ বিষয়ে মামলা হবে। এখানে কোনোভাবেই বিশৃঙ্খলা করা যাবে না। আমরা ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।
ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী কাওরান বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। সেনা ও পুলিশ যৌথভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। নিরাপত্তা বাহিনী স্থানীয় দোকানপাট, প্রধান রাস্তাঘাট ও কাঁচামালের আড়ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে। তারা মনে করছেন, যদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, তবে কাওরান বাজারে বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলতে পারবে।
এদিকে, স্থানীয় জনগণ ও ব্যবসায়ীরা অনেকে বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও অপরাধজনিত হামলা তাদের ব্যবসা ও দৈনন্দিন জীবনে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তাই মানববন্ধন আয়োজন করা হয়েছিল। হামলার ঘটনা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই ঘটেছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এ ঘটনার কারণে কাওরান বাজারে সাধারণ ক্রেতা ও বিক্রেতারা সতর্ক হয়ে উঠেছেন। বাজার প্রশাসনও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তত্ত্বাবধানে রয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি মনিটরিং করছে।