প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৩ পিএম (ভিজিট : ১৩০)

X
বরিশাল নগরীর পুলিশ লাইন এলাকায় এক খ্রিস্টান দম্পত্তির বাসায় এক মুসলিম শিশু কন্যা শিশুকে দত্তক নিয়ে নির্যাতন ও যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছে পুলিশ। পালিয়ে গেছে যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত ওই নারীর ভাই জনি বিশ্বাস (৩০)। তবে উদ্ধার করা হয়েছে শিশুটিকে।
আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) আটক অভিযুক্ত এ্যাডলিন বিশ্বাসকে (৩৫) আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
মামলা ও অন্যান্য সূত্রে জানা গেছে, নগরীর পুলিশ লাইন রোডস্থ আম বাগান এলাকার বাসিন্দা ড্যান অধিকারী ও এ্যাডলিন বিশ্বাস দম্পত্তি প্রায় ১০ বছর আগে পোর্ট রোড এলাকার এক রেস্টুরেন্ট কর্মচারী মরিয়ম আক্তারের এক বছরের শিশু কন্যা মিমকে দত্তক নেন। মুসলিম মেয়েকে দত্তক নিয়ে নাম পরিবর্তন করে রাখেন এনজেল অধিকারী মিম। বিভিন্ন সময় শিশুটির মা মরিয়ম তার সাথে দেখা করতে গেলেও ওই দম্পত্তি তা করতে দিতেন না। সম্প্রতি ১২ বছরের শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা মর্মে এ্যাডলিন বিশ্বাস থানায় একটি জিডি করেন। পরবর্তীতে তার ঘরের গৃহপরিচারিকা ঝুমুর বেগমের নামে শিশুটিকে অপহরণের অভিযোগ এনে কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন এ্যাডলিন। এর সূত্র ধরে পুলিশ গত ২৮ ডিসেম্বর মিমকে নগরীর ৯ নং ওয়ার্ডস্থ দূর্গাপুর সরকারী প্রাথমকি বিদ্যালয় সংলগ্ন আব্দুল জলিল শিকদারের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ওই বাড়ির লোকজনের শিশুটির কথাবার্তা এলোমেলো মনে মনে হলে তাদের হেফাজতে রাখেন। উদ্ধারে পর মেয়েটি পুলিশ ও আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে জানায়, তাকে দত্তক নেয়া পরিবারের সদস্য এ্যাডলিন বিশ্বাস তার বুঝ হওয়ার বয়স থেকেই নানা অজুহাতে মারধর করতো। বাড়িতে কাজের লোক থাকা সত্বেও তাকে দিয়ে অমানবিক কাজ করাতো। না পারলেই মারধর করতো। এছাড়া এ্যাডলিন বিশ্বাসের ভাই একই ভবনের বাসিন্দা জনি বিশ্বাস তাকে নানা অজুহাতে তার ঘরে নিয়ে গিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিয়ে যৌন হয়রানি করতো। বাধ্য হয়েই সে ঘর থেকে পালিয়ে গেছে বলে আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে শিশু মিম জানায়।
এ ঘটনায় পুলিশ সোমবার অভিযুক্ত এ্যাডলিন বিশ্বাসকে আটক করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত জনি বিশ্বাস পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩০) ডিসেম্বর কোতয়ালী পুলিশ আটক ওই নারীকে আদালতে সোপর্দ করে।
কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল মামুন উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, মেয়েটি তার বাবার নামও বলতে পারেনি। ছোট বেলায় তাকে দত্তক নিয়ে নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় বড় করে আটক এ্যাডলিন দম্পত্তি। তবে শিশুটি তার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ এনেছে। আর নির্য়াতন সহ্য করতে না পেরেই সে পালিয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে শিশু মিম। তার অভিযোগের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনহত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।