যে কারণে এতটা জনপ্রিয় খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

এরশাদের সামরিক শাসনের সময় খালেদা জিয়ার অভিষেক হয়েছিল। তখন একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতির উত্তপ্ত ময়দানে তার বিচরণ শুরু হয়। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার ভাষ্য, ‘যখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অত্যাচারে বড় বড় রাজনীতিবিদরা খাবি খাচ্ছিলেন, সে পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছেন। তিনি কোনও আপস করেননি। তাই সাধারণ মানুষের কাছে তার এক ধরনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে।’

2025-12-30T22:08:30+00:00
2025-12-31T19:26:28+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
যে কারণে এতটা জনপ্রিয় খালেদা জিয়া
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:০৮ পিএম  আপডেট: ৩১.১২.২০২৫ ৭:২৬ পিএম  (ভিজিট : ২২৫)
X

এরশাদের সামরিক শাসনের সময় খালেদা জিয়ার অভিষেক হয়েছিল। তখন একজন গৃহবধূ থেকে রাজনীতির উত্তপ্ত ময়দানে তার বিচরণ শুরু হয়।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার ভাষ্য, ‘যখন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর অত্যাচারে বড় বড় রাজনীতিবিদরা খাবি খাচ্ছিলেন, সে পরিস্থিতিতে খালেদা জিয়া নতুন জাগরণ সৃষ্টি করেছেন। তিনি কোনও আপস করেননি। তাই সাধারণ মানুষের কাছে তার এক ধরনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি গড়ে ওঠে।’

‘এর কারণে ৯১ সালের নির্বাচনে তার দল অসাধারণ ফলাফল অর্জন করে। যেখানে তখন বিশ্লেষকরা ধরেই নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসছে। সেই থেকে তার প্রতি মানুষের গ্রহণযোগ্যতা অব্যাহত থাকে। বিএনপির মতো বড় রাজনৈতিক দলকে প্রায় চার দশক ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন তিনি।’

মাহমুদুর রহমান মান্না উল্লেখ করেন, ‘আর ৯০-এ এরশাদের পতনের পর ৯১ সালে খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো সরকার প্রধান হিসেবে রাষ্ট্র ক্ষমতায় বসেন। একটি দল ক্ষমতায় থাকলে নানা কারণে সরকার প্রধানকে নানা বিতর্কে পড়তে হয়। সেই অর্থে খালেদা জিয়া ছিলেন স্বচ্ছ। ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। তিনি কোনও দুর্নীতির সাথেও জড়িত ছিলেন না। তাই এখনও অসম্ভব জনপ্রিয়।’

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট সংক্রান্ত দুদকের একটি মামলায় সাজা হয় খালেদা জিয়ার। সেদিনই তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিশেষ আদালত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে তিনি মুক্তি পান।

রাজনীতিক ও চিন্তক ফিরোজ আহমেদ লিখেছেন, ‘একানব্বই সালে তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হন, সকলেই বিস্মিত হয়েছিলেন। কিন্তু ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের অন্যতম কারণ ছিল দলটির উগ্র অহমিকা, খালেদা জিয়াকে জিতিয়ে দিয়েছিল তার একদিকে আপসহীন, আরেক দিকে নম্র ভাবমূর্তি।’

‘নারীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি তার সময়ের অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ।  আজও এর ফল ভোগ করছে গোটা সমাজ। রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে বহু  নিপীড়নের শিকার তিনি হয়েছেন’।

খালেদা জিয়া যখন মারা যান, তার প্রতিক্রিয়ায় তার আজন্ম-বিরোধী রাজনৈতিক নেতা শেখ হাসিনাও শোক প্রকাশ করেছেন। সমবেদনা জানিয়েছেন পুত্র তারেক রহমানের প্রতি।

বিএনপির পক্ষ থেকে বরাবরই শেখ হাসিনার সরকারকেই খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য দায়ী করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এক ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনাকেও দায়ী করেন।

আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহলসহ সর্বমহলে শোক ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো ভরে উঠে শোকের বার্তায়। দেশি, বিদেশি আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বরা দিয়েছেন শোকবিবৃতি। গণমাধ্যমে নেওয়া হয়েছে বিশেষ আয়োজন। দৈনিক পত্রিকাগুলো বিশেষ কভার করার খবরও মিলেছে এই প্রতিবেদন লেখার সময়।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুর খবরে সারা দেশ থেকে অনুসারীদের ঢাকামুখী হওয়ার বার্তাও পাওয়া গেছে। আগামীকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে জানাজার পর তাকে চন্দ্রিমা উদ্যানে স্বামী জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে দাফন করা হবে।

জনপ্রিয়তার বিচারে দেশের সংসদীয় নির্বাচন একটি উদাহরণ। ১৯৯১ সাল থেকে শুরু করে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়া প্রতিবারই পাঁচটি আসনে প্রার্থী হয়েছেন এবং সব আসনে তিনি জয়লাভ করেছেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বিতর্কিত একতরফা নির্বাচনেও খালেদা জিয়া প্রার্থী ছিলেন। এরপর ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতা করে তিনটিতে জয়ী হন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল করেছিল বিএনপি। সে নির্বাচনে মাত্র ৩০টি আসন পেলেও খালেদা জিয়া নির্বাচনে জয়লাভ করতে কোনও অসুবিধা হয়নি। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও খালেদা জিয়া তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশে তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছিল। সর্বশেষ আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তিনটি আসন থেকে স্থায়ী কমিটির মনোনয়ন পেয়েছিলেন খালেদা জিয়া।




  বিষয়:   খালেদা জিয়া  জনপ্রিয়  মান্না  মৃত্যু  শোক 



Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy