প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ২:১৫ পিএম (ভিজিট : ৩২০)

X
সময় থেমে থাকে না, নদীর মতোই সে বয়ে চলে। কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল। সেই স্রোতের টানে আরেকটি ঘটনাবহুল বছর ২০২৫ আজ বিদায়ের ক্ষণে দাঁড়িয়ে। উন্নয়ন আর অস্থিরতা, প্রাপ্তি আর বেদনা, আশার আলো আর শঙ্কার ছায়া সবকিছু বুকে ধারণ করে ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হচ্ছে আরও একটি বছর। আর ঠিক সেই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম প্রস্তুত হচ্ছে নতুন বছর ২০২৬-কে স্বাগত জানাতে।
২০২৫ সাল চট্টগ্রামের জন্য ছিল প্রশ্ন আর প্রতিশ্রুতির বছর। কখনো শহরের অলিগলিতে কিশোর গ্যাংয়ের ছায়া, কখনো নির্বাচনী উত্তাপে রক্তাক্ত রাজপথ নগরবাসী প্রত্যক্ষ করেছে সহিংসতার কঠিন বাস্তবতা। একের পর এক হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক অস্থিরতা আর আন্ডারওয়ার্ল্ডের গুঞ্জন নগরীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। চট্টগ্রাম যেন বারবার প্রশ্ন করেছে আমরা কোন পথে হাঁটছি? তবুও এই শহর থেমে থাকেনি। কর্ণফুলীর ঢেউয়ের মতোই চট্টগ্রাম জানে এগিয়ে যেতে। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ৫শ’ মিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের ঘোষণা ভবিষ্যতের সম্ভাবনার জানালা খুলে দেয়। বন্দর ইজারা নিয়ে আন্দোলনের উত্তাপ, রাজপথের স্লোগান আর দাবি-দাওয়ার মধ্যেও বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে—যা দেশের অর্থনীতির প্রাণপ্রবাহ সচল থাকার ইঙ্গিত দেয়।
এই শহরের মানুষ ২০২৫ সালে ভুগেছে পানি সংকটে। ওয়াসার কল খুলেও পানি না পাওয়ার হতাশা, দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়া কর্মজীবন, হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডে ছাই হয়ে যাওয়া স্বপ্ন, সব মিলিয়ে নগরজীবন ছিল কঠিন পরীক্ষার মুখে। পাহাড়কাটা আর পাহাড় ধস প্রকৃতির নীরব আর্তনাদ হয়ে বারবার মনে করিয়ে দিয়েছে—উন্নয়নের পথে ভারসাম্য হারালে বিপর্যয় অনিবার্য।
চট্টগ্রাম ইপিজেডের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শিল্পনগরীর আকাশে ধোঁয়ার কালো মেঘ তুলেছিল। বছরের শেষ প্রান্তে এসে ভারতীয় ভিসা কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় বিশেষ করে চিকিৎসা প্রত্যাশী মানুষের চোখে নেমে আসে অনিশ্চয়তার ছায়া। তবুও জীবন থেমে থাকেনি কারণ চট্টগ্রাম জানে প্রতিকূলতার মাঝেও বেঁচে থাকার ভাষা।
এখন, বছরের শেষ সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম যেন নিঃশ্বাস নিয়ে সামনে তাকাচ্ছে। বিদায়ী বছরের ভুল, ব্যর্থতা আর অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করেই নতুন বছর ২০২৬-এর পথে পা বাড়াচ্ছে বন্দরনগরী। প্রত্যাশা একটাই—এই শহর হবে আরও নিরাপদ, আরও মানবিক, আরও পরিকল্পিত। রাজপথে ফিরবে স্বস্তি, নাগরিক সেবায় আসবে শৃঙ্খলা, আর কর্ণফুলীর তীরে দাঁড়িয়ে চট্টগ্রাম আবারও গর্ব করে বলতে পারবে—আমি সম্ভাবনার শহর।