সালতামামি ২০২৫: বছরজুড়ে খুলনা যেন আতঙ্কের নগরী

জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা

সারাবাংলা

২০২৫ সাল জুড়ে খুলনা ছিল আতংকের নগরী। হত্যা হয়েছে ৩৬ টি। নদী থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশত। প্রকাশ্যে আদালত চত্ত্বরে জোড়া হত্যা, একই পরিবারে ৩ জন হত্যাসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বছর জুড়ে ছিল প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রেও মহড়া, মাদক সিন্ডিকেটের অপ্রতিরোধ্য দৌরাত্ম্য।

2025-12-31T17:43:25+00:00
2025-12-31T17:43:25+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সালতামামি ২০২৫: বছরজুড়ে খুলনা যেন আতঙ্কের নগরী
জাহাঙ্গীর আলম, খুলনা
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৫:৪৩ পিএম   (ভিজিট : ১১৩)
X

২০২৫ সাল জুড়ে খুলনা ছিল আতংকের নগরী। হত্যা হয়েছে ৩৬ টি। নদী থেকে লাশ উদ্ধার হয়েছে কমপক্ষে অর্ধশত। প্রকাশ্যে আদালত চত্ত্বরে জোড়া হত্যা, একই পরিবারে ৩ জন হত্যাসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বছর জুড়ে ছিল প্রকাশ্যে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রেও মহড়া, মাদক সিন্ডিকেটের অপ্রতিরোধ্য দৌরাত্ম্য। 

আলোচিত হত্যাকান্ডের মধ্যে গত ১১ জুলাই দিন দুপুরে দৌলতপুর মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়ায় বাড়ির সামনে গুলি করে এবং পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয় সাবেক যুবদল নেতা মাহাবুবুর রহমান মোল্লাকে। ৩০ নভেম্বর আদালত চত্ত্বরের সামনে বেলা সাড়ে ১২ টায় গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসিব হাওলাদার ও ফজলে রাব্বি রাজন নামে দু’জনকে। তারা একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় এ হত্যার ঘটনা ঘটে। 

এর আগে ১৭ নভেম্বর মুক্তা কমিশনারের বাড়ির সামনে কালভার্টের পাশে বৃদ্ধা মহিদুন্নেছা এবং তার দু’ নাতি ফাতিহা ও মুস্তাকিমকে হত্যা করা হয়। একই দিন সোনাডাঙ্গা করিমনগরে ঘরের মধ্যে ঢুকে গুলি কওে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় আলাউদ্দিন মৃধা নামে এক যুবককে। গেল ১৮ ডিসেম্বর আড়ংঘাটা থানার শলুয়া বাজারে সন্ত্রাসীরা গুলি কওে হত্যা করে ইমদাদুল হক মিলন নামে এক সাংবাদিকে।  

পুলিশের তথ্য বলছে, বছরের শুরু থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নগরীতে খুনের ঘটনায় ৩৬টি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব হত্যার নেপথ্যে ১৪টি কারণ শনাক্ত করেছে  পুলিশ। এর মধ্যে ২৩টি মামলার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। কিন্তু ১৩টি মামলার রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি। সেগুলোর কারণ খুঁজছে পুলিশ।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) ত ম রোকনুজ্জামান বলেন, ‌‌‘‌২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩৬টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩৬টি মামলা হয়। এর মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে ২৩টির। ৩৬টি খুনের মামলার মধ্যে মাদকের আধিপত্য বিস্তার ও সন্ত্রাসী গ্রুপের দৌরাত্ম্য দেখাতে ১৩টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ইজিবাইক চুরির উদ্দেশ্যে ঘটেছে দুটি, পরকীয়ার কারণে ঘটেছে দুটি, জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটেছে একটি, জমির ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটেছে একটি, চোরাই স্বর্ণের চেইন বিক্রয়ের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ঘটেছে একটি, টিসিবির লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে ঘটেছে একটি, পারিবারিক কলহের কারণে ঘটেছে ছয়টি, ব্যবসার টাকা লেনদেন নিয়ে ঘটেছে দুটি, প্রেমঘটিত কারণে দুটি, চুরির উদ্দেশ্যে ঘরে ঢুকে হত্যার ঘটনা একটি, বন্ধু কর্তৃক হত্যা হয়েছে একটি, দুই পক্ষের মারামারি ঠেকাতে গিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে একটি, অজ্ঞাত কারণে হত্যা হয়েছে দুটি। বাকি হত্যাকাণ্ডগুলোর রহস্য উন্মোচনের চেষ্টা করছে পুলিশ।’

ত ম রোকনুজ্জামান আরও জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দুটি, ফেব্রুয়ারিতে একটি, মার্চে একটি, এপ্রিলে তিনটি, মে মাসে পাঁচটি, জুনে তিনটি, জুলাইয়ে দুটি, আগস্টে পাঁচটি, সেপ্টেম্বরে একটি, অক্টোবরে পাঁচটি, নভেম্বরে পাঁচটি ও ডিসেম্বরের তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে সদর থানায় ১০টি, সোনাডাঙ্গা থানায় নয়টি, লবণচরা থানায় পাঁচটি, হরিণটানা থানায় চারটি, খালিশপুর ও দৌলতপুর থানায় তিনটি করে এবং আড়ংঘাটা থানায় দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘খুলনার অপরাধ জগত একাধিক উপদলের মধ্যে বিভক্ত। যার মধ্যে রয়েছে পলাশ গ্রুপ, গ্রেনেড বাবু গ্রুপ, নূর আজিম গ্রুপ এবং হুমা, আরমিন এবং নাসিমের নেতৃত্বে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী সক্রিয় আছে। নাসিম এবং আরমিনের মুক্তির পর সক্রিয় রয়েছে কার্যক্রম।’

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড ছিল খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে দুই শীর্ষ অপরাধী হাসিব হাওলাদার এবং ফজলে রাব্বি রাজন হত্যা। গত ৩০ নভেম্বরের এ ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর খুলনা কারাগার থেকে  মুক্তি পায় শীর্ষ চরমপন্থী দলের দুই প্রধান নাসিমুন গণি ওরফে নাসিম এবং আরমান ওরফে আরমিন শেখ। দৌলতপুরের আরেক সন্ত্রাসী এক সময়ের আতংকের নাম টাইগার খোকন। তার হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি নাসিম ও আরমান হাইকোর্টের জামিন নিয়ে জেল থেকে বের হয়ে আত্মগোপনে রয়েছে। ফলে খুলনার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন আরও একটি সন্ত্রাসী বাহিনীর কর্তৃত্ব শুরু হয়েছে। বর্তমানে খুলনা শহরে বাহিনীর সংখ্যা বেড়ে সাতটিতে দাঁড়িয়েছে। 

এসব ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খুলনার কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই শীর্ষ চরমপন্থী নেতা–নাসিমুল গণি ওরফে নাসিম এবং আরমান শেখ ওরফে আরমিন হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার দুই দিন পরই আদালত পাড়ায় হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। উভয়ই দৌলতপুর-ভিত্তিক অপরাধী ‘টাইগার খোকন’ হত্যার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। মূলত তাদের মুক্তির কারণে খুলনার অপরাধ জগতে অস্থিরতা তীব্র হয়েছে। খুলনায় বর্তমানে সাতটি বড় অপরাধী গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী চরমপন্থী এবং অপরাধী গোষ্ঠীগুলো আধিপত্যের লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আরও আক্রমণ চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেএমপির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কুখ্যাত গ্যাং লিডার ‘রনি চৌধুরী বাবু ওরফে গ্রেনেড বাবু গ্রুপ’ এই জোড়া খুনের সঙ্গে জড়িত। খুলনা কারাগারে বাবুর সমর্থকদের সঙ্গে পলাশ গ্রুপের মধ্যে সম্প্রতি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার সময় নিহতরা কারাগারে ছিলেন এবং সংঘর্ষে অংশ নেন। তার প্রতিশোধ হিসেবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।’

র‍্যাব-৬-এর সিও লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ বলেন, ‘আদালত এলাকায় জোড়া হত্যা মিশনে সাত সদস্যের টিম ছিল। গ্রেফতারকৃত এজাজুল হোসেন ছিল মূল আক্রমণকারী। ঘটনাটি সংগঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‍্যাব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও সংগ্রহ করা হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর হত্যায় সরাসরি সম্পৃক্ত এজাজুলকে গ্রেফতার করা হয়। হত্যায় জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে সে। মূলত খুলনা মহানগরীতে দুটি সন্ত্রাসী দলের (পলাশ ও গ্রেনেড বাবু) মাঝে কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে।’ এছাড়া তিনি বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা মোতালেব শিকদার হত্যাচেষ্টায় সুটার ঢাকাইয়া শামীম ও মাহাদিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারাও গ্রেনেড বাবুর সদস্য বলে তিনি জানান। 

এদিকে পুলিশ বলছে জেলার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা রূপসা উপজেলায়। সেখানে গত দুই মাসে পাঁচটি খুনের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে চারজনকেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা খুনোখুনি বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর নগরীর অনেক কুখ্যাত সন্ত্রাসীর জামিনে বেরিয়ে আসার কথা বলছেন। এসব অপরাধী এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া। এতে চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। হাতে থাকা অবৈধ অস্ত্র পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলছে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

পুলিশের বর্তমান ও সাবেক একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সোর্সকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ‘সোর্স মানি’ যথাসময়ে দিতে হবে। পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনা ও তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। সন্ত্রাসীদের পেছনে কোনো রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যান্য বাহিনীকেও সক্রিয় হতে হবে। 

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক তানভীর আহমেদ সোহেল মনে করেন, পারিবারিক নৈতিকতা এবং সামাজিক অনুশাসনের অভাব সমাজে সহিংসতা বাড়িয়ে তুলছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে নজরদারির ঘাটতিও একটি বড় সমস্যা।

বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, ১৯৯৯-২০০৬ সাল পর্যন্ত খুলনা অঞ্চলে চরমপন্থি সংগঠনগুলো বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে একে অপরের ওপর খুনোখুনিতে লিপ্ত হয়। পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল) ভেঙে পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল-জনযুদ্ধ); বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি ভেঙে নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টিসহ একাধিক চরমপন্থি সংগঠন আত্মপ্রকাশ করে। তারা এখনো সক্রিয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক সংগঠনের আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে এবং তাদের ‘ব্যবহার’ করছে।

এদিকে দৌলতপুরের স্থানীয়রা বলেন, এলাকায় একসময় ‘চরমপন্থিদের’ দৌরাত্ম ছিল। মাঝখানে কিছুটা কম থাকলেও ৫ অগাস্টের পর তারা নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে মাদকের ব্যবসার নিয়ন্ত্রণও খুনের প্রধান কারণ।

খুন হওয়া ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা বলছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মামলার মূল আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় তারা উদ্বেগের মধ্যে আছেন। আসামিরা তাদের ভয় দেখাচ্ছেন; এ নিয়ে তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন।

আদালতের সামনে ৩০ নভেম্বর খুন হন হাসিব হাওলাদার। কিন্তু তার পরিবার কোনো মামলা করেনি। সেদিন সেখানে গুলি করে হত্যা করা হয় ফজলে রাব্বি রাজনকেও।

হাসিবের ভাই সুমন হাওলাদার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “কারা হত্যা করেছে, আমরা জানি না। এর ওপর আমরা আতঙ্কে আছি। মারা যাওয়া বড় ভাই ও আমার সন্তানসহ পরিবারের সবার নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

“পরিবারে এখন একমাত্র ছেলে আমি। আমাদের ওপর যদি আক্রমণ আসে? তাই আমরা কোনো মামলায় যেতে চাই না। ভাইয়ের হত্যার বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছি।”

দৌলতপুর থানা যুবদলের সাবেক সহসভাপতি মো. মাহাবুবুর রহমান মোল্লা খুন হন ১১ জুলাই। তার বাবা আবদুল করিম মোল্লা অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।

করিম মোল্লা বলেন, “এখনও হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা উৎকণ্ঠায় আছি। আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। ভয়, আতঙ্কে রাতে ঠিকমত ঘুমাতে পারি না।”

দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা বণিকপাড়া খানাবাড়ি এলাকায় আল-আমিন নামে এক ঘের ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করা হয় ৩ অগাস্ট রাতে। নিহতের বড় ভাই আওলাদ হোসেন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

আওলাদ বলছিলেন, “আমার ভাইকে নৃশংসভাবে হত্যার অপরাধীরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা ভয় ও আতঙ্কের ভেতর দিন কাটাচ্ছি।”

দৌলতপুরের মহেশ্বরপাশা পশ্চিমপাড়া বাজার মসজিদ সংলগ্ন বাড়িতে ঘুমের মধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বর খুন হন তানভীর হাসান ওরফে শুভ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল বাশার অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

বাশার বলেন, “এখনো হত্যাকারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আমরা হতাশ। আমাদেরকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা ভয় ও আতঙ্কে আছি।”
২ নভেম্বর আড়ংঘাটার যোগীপোল বিএনপির কার্যালয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন শেখকে হত্যার উদ্দেশে গুলি করা হয়। সেটি ‘লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে’ প্রবীণ শিক্ষক ইমদাদুল হক নিহত হন।

নিহতের ছেলে অনিক বলেন, “মাহফিলের টাকা সংগ্রহে গিয়ে আমার বাবা নিহত হন। আব্বুর স্বপ্ন ছিল আমি ডাক্তার হব। এখন আমার লেখাপড়াই চলছে না। আমাদের পরিবারের সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে আমরা ভয় ও আতঙ্কে আছি।”

একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের শনাক্ত এবং মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সক্ষম হয় না। ফলে অপরাধের মূল হোতারা অনেক সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছেন, যারা ধরা পড়েন, তাদের অধিকাংশই ‘ভাড়া খাটা’ সন্ত্রাসী। তাদেরকে জামিনে বেরিয়ে আসতেও আড়াল থেকে কাজ করেন মূল অপরাধীরা।

এছাড়া নৌ-পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, এক বছরে খুলনা অঞ্চলের নদ-নদী থেকে মোট ৫০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ পুরুষ, সাতজন নারী ও ১১টি শিশু। উদ্ধার হওয়া লাশের মধ্যে ২০ জনের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। সর্বশেষ খুলনা পিবিআই বস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার করার পরিচয় পেয়েছে। ২০ আগস্ট বটিয়াঘাটার ঝপঝপিয়া নদী থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার হয়। ১৮ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জের হালুয়াঘাট থেকে খুনি লালন গাজীকে গ্রেপ্তার করা হয়। সব মিলিয়ে বছর জুড়ে খুলনা ছিল আতংকের নগরী। 





  বিষয়:   সালতামামি  খুলনা  লাশ  হত্যা  খুন  অপরাধ 



Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy