গ্রীষ্মে লোডশেডিং এড়াতে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

গ্রীষ্মকালে সম্ভাব্য লোডশেডিং এড়াতে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে

2026-01-06T11:10:25+00:00
2026-01-06T11:10:25+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
গ্রীষ্মে লোডশেডিং এড়াতে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১০ এএম   (ভিজিট : ১১০)
X

গ্রীষ্মকালে সম্ভাব্য লোডশেডিং এড়াতে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর আর্থিক চাপ কমাতে বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া দ্রুত পরিশোধের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতে জমে থাকা দায় নিষ্পত্তির বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে এবং বকেয়া পরিশোধের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বড় আর্থিক সংকটে না পড়ে।

তবে খাতসংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিল পরিশোধে বিলম্বের কারণে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি আমদানির সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এতে সরবরাহ মার্জিন কম থাকা অবস্থায় বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় আশঙ্কা দেখা দিয়েছে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এস এস পাওয়ার লিমিটেডকে ঘিরে। প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। বিপিডিবিকে পাঠানো চিঠিতে তারা জানিয়েছে, তাদের বকেয়া বিল ৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না হলে উৎপাদন বন্ধ করার অধিকার রয়েছে তাদের।

এস এস পাওয়ারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অর্থ পরিশোধে বিলম্বের কারণে কয়লা, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহে সমস্যা হচ্ছে। প্রতিদিন ১২–১৪ হাজার টন কয়লা ছাড়া কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো সম্ভব নয়।

বিপিডিবির কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, এত বড় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গ্যাস সংকটের কারণে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো যখন সক্ষমতার নিচে চলছে, তখন এই ঘাটতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।

এদিকে পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ চাহিদার এক-চতুর্থাংশেরও কম। যদিও বর্তমানে শীত মৌসুমে চাহিদা কম থাকায় লোডশেডিং নেই, সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করছেন—বকেয়া সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে আসন্ন গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।




  বিষয়:   সরকার  লোডশেডিং  বকেয়া 



Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy