প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:২৪ পিএম (ভিজিট : ১১৪)

X
নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ, বিস্তার এবং ঝুঁকি বিষয়ক মতবিনিময় সভার আয়োজন করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআর।
গবেষকেরা বলছেন, নিপা ভাইরাস মানুষে সংক্রমিত হয় বাদুড়ের মুখের লালা ও আক্রান্তের প্রস্রাবের মাধ্যমে। বর্তমানে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়েছে দেশের ৩৫ জেলায়। ফরিদপুর, রাজবাড়ি, নওগাঁ ও লালমনিরহাটে এর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি বলে জানানো হয়।
গবেষকরা বলছেন, কেউ সরাসরি রস খেলে ২ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে জ্বরসহ মাথাব্যথা, প্রলাপ বকা, খিঁচুনিসহ রোগী অজ্ঞানও হয়ে যায়। তবে সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে যারা আসবেন তাদেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
আইইডিসিআরের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, ‘এই রোগে আক্রান্ত হলে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা দেখা দেয়, কাশি থাকবে। নিপা ভাইরাসের যেমন কোনো ব্রাঞ্চ নেই, ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও তাই।’
আইসিডিডিআরবির সহযোগী গবেষক ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, ‘খেজুরের রস খাওয়া কিন্তু কমছে না। এটি খুব দুঃখজনক। নিপা ভাইরাসে মানুষ খুব একটা বাঁচে না।’
নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২০০১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছে তিনশ সাতচল্লিশ জন। এর মধ্যে মারা গেছে দুইশ উনপঞ্চাশ জন। নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত বেঁচে থাকা মানুষগুলোও সারাজীবন স্নায়বিক সমস্যায় ভোগেন।
আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন বলেন, ‘ভোলাতে এর আগে কখনও নিপা ভাইরাসের ইনভেকশ ছিল না। আমরা দেখছি যে বছরের পরিবর্তনে জেলার সংখ্যা বাড়ছে। এখানে আমরা আরেকটি কথা বলতে চাই যে অনলাইনেও এগুলো (খেজুরের রস) বিক্রি হচ্ছে। কোথাকার রস কোথায় যাচ্ছে আমরা তা জানি না।’
দেশে গত দুই বছরে নিপাহ ভাইরাসে শনাক্ত ব্যক্তিদের সবাই মারা যান। এ ভাইরাস প্রতিরোধে টিকা তৈরির গবেষণা এখনও চলছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।