প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম (ভিজিট : ১৩৩)

X
শুরুতে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে ক্ষোভ জানালেও বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে এখন স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে সরকার পতনের ডাক। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পতনের দাবিতে বিক্ষোভকারীদের বর্তমান স্লোগান- ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’।
রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। সরকারি ভবন, মসজিদ, রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। এমনকি নিজ দেশের পতাকাও ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে শাসকগোষ্ঠী যেমন গুলি চালাচ্ছে, তেমনি বিক্ষোভকারীরাও চালাচ্ছে পাল্টা হামলা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রের টাইম সাময়িকীকে জানান, তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে অন্তত ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর খবর রেকর্ড করা হয়েছে, যাদের ‘অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ’ হয়ে প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ইরানের ৩১টি প্রদেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল ভেঙে পড়া অর্থনীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে। তবে খুব দ্রুতই তা বিস্তৃত হয়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র উৎখাতের দাবিতে রূপ নেয়। শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে বিক্ষোভকারীরা সরকারি স্থাপনায় হামলা শুরু করে। এমনকি ভাঙচুর করে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রয়াত কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির ভাস্কর্যও।
চলমান বিক্ষোভ আরও সহিংস হয়ে ওঠায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র শত শত হাজার সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এটাকে ধ্বংস করতে চায়— এমন শক্তির সামনে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না।’
সেই সাথে, বিক্ষোভকারীদের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার অভিযোগও তোলেন তিনি।