
X
শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে চালু হয়েছিল জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রেশন (এনইআইআর) সিস্টেম। কিন্তু বাস্তবে সেই শৃঙ্খলাই অচল করে দিয়েছে দেশের মোবাইল বাজার। টানা দুই সপ্তাহ ধরে তালাবদ্ধ রাজধানীর বড় বড় মোবাইল মার্কেট। একদিকে গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরছাড়া ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকার লোকসানে নিঃস্ব হওয়ার শঙ্কায় লাখো পরিবার।
ফ্লোরজুড়ে নীরবতা। ক্রেতা-বিক্রেতার কোলাহলে মুখর থাকা দোকানগুলোতে এখন ঝুলছে তালা, বন্ধ সাটার। এমন দৃশ্য গত দুই দশকে দেখেননি কেউ।
এই চিত্র রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কের মোবাইল মার্কেটের। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীর এই দুই বৃহৎ মোবাইল বাজারসহ দেশের প্রায় সব মোবাইল মার্কেট বন্ধ। এর মূল কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দায়ী করছেন এনইআইআর সিস্টেম চালুকে।
ব্যবসায়ীদের তিন মাস সময় দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২৬ সালের শুরুতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় আনঅফিশিয়াল সব মোবাইল হ্যান্ডসেট। বারবার সংলাপ ও শুল্ক কমানোর আবেদন জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামলে শুরু হয় ধরপাকড়।
তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় বহিরাগতরা জড়িত থাকলেও দায় চাপানো হচ্ছে তাদের ওপর। অহেতুক গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, “তথ্য আপনার-আমার যাচ্ছে দিল্লিতে, স্টোর হচ্ছে দিল্লিতে। আশপাশে এমন কোনো দেশ নেই যেখানে এই ডেটা রাখা যায়? আধিপত্যবাদ নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, সেখানে কেন আমাদের তথ্য অন্য দেশে সংরক্ষণ করতে হবে?”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ এনইআইআর সিস্টেম চালু করায় পুরো বাজার অচল হয়ে পড়েছে। তাদের আশঙ্কা, সিস্টেমটির ডেটাবেজ ভারতে থাকায় তথ্য চুরি ছাড়াও একই ব্যক্তির নামে একাধিক আইএমইআই নম্বর নিবন্ধনের ঝুঁকি রয়েছে।
স্মার্ট থিংকের স্বত্বাধিকারী মঈন আহমেদ বলেন, “১ তারিখে আমরা বিটিআরসি ভবনে যাই। তখন আমাদের ভেতরে কিছু বহিরাগত ঢুকে ভাঙচুর চালায়। সেদিনই প্রায় ৪৫ জন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা এখন বাসায় ঘুমাতে পারি না। প্রতিদিন ডিবি আতঙ্কে থাকি। এমনকি কয়েকজন ব্যবসায়ীর বাসায় পুলিশ হানাও দিয়েছে।”
দোকান বন্ধ থাকায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার মোবাইল ফোন। ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় এই খাতে জড়িত ২০ লাখেরও বেশি মানুষের জীবিকা এখন অনিশ্চয়তায়।
মো. আনিসুর রহমান সোহেল আরও বলেন,“মোবাইল ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে পুরো আইটি সেক্টরেই বড় প্রভাব পড়বে। ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সিগুলো আমাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। প্রবাসীরা বাস্তবতা বোঝেন না। তারা বাংলাদেশে এসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে তিন থেকে পাঁচ কর্মদিবস অপেক্ষা করবে এটা বাস্তবসম্মত নয়। এটাই মূল সমস্যা।”
এদিকে, মোবাইল মার্কেট বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারাও। ফোন কিনতে এসে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। বন্ধ রয়েছে সার্ভিসিং সেবাও। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি বিটিআরসির কোনো কর্মকর্তা।