জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে বিশ্বজুড়ে শহরাঞ্চলে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। দীর্ঘদিন ধরেই দূষিত বাতাসের শহর হিসেবে পরিচিত মেগাসিটি ঢাকা। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে রাজধানী ঢাকা।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ২৮৫, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। একই সময়ে ৩০০ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে মিশরের কায়রো। আর ২৫৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি।
এ ছাড়া চীনের চেংদু শহর ২৪৪ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং ভিয়েতনামের হ্যানয় ২২৮ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শহরের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণ করে এই তালিকা প্রকাশ করে। তাদের তৈরি এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) সূচকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকার বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং তা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ—সে সম্পর্কে তথ্য জানানো হয়।
একিউআই সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোর ভালো হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোর সহনীয় বা মাঝারি। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর অস্বাস্থ্যকর এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। একিউআই ৩০১-এর বেশি হলে সেটিকে দুর্যোগপূর্ণ ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণ মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। এটি সব বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর হলেও শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি।
বাংলাদেশে বায়ুমানের একিউআই নির্ধারণ করা হয় পাঁচটি প্রধান দূষণ উপাদানের ভিত্তিতে। এগুলো হলো—বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাই অক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন (ও৩)।
২০১৯ সালের মার্চে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান তিন উৎস হলো—ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজ থেকে উড়তে থাকা ধুলা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ফুসফুসের ক্যানসার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণে মৃত্যুহার বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।