
X
২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সরকারের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। মূল এডিপির তুলনায় এতে প্রায় ১৩ শতাংশ ছাঁটাই করা হয়েছে। ফলে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমে বর্তমান বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকায়।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংশোধিত এডিপিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সংশোধিত এডিপির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বাষিক উন্নয়ন কর্মসূচি-এডিপি ৩০ হাজার কোটি টাকা কমে ২ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস হতে অর্থায়ন ৭২ কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, সংশোধিত এডিপিতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর চাহিদাই ছিল তুলনামূলকভাবে কম। সংশোধনের সময় তারা মোট বরাদ্দ চেয়েছিলেন প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে চলতি অর্থবছরে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি।
অনেক প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্প পরিচালক না থাকা, নতুন পরিচালক নিয়োগে বিলম্ব এবং বড় কয়েকটি প্রকল্প সরকারিভাবে পুনর্মূল্যায়নের আওতায় থাকা—এসব কারণে প্রকল্প ব্যয় কম চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও মূল এডিপি থেকে সংশোধিত এডিপি অভ্যন্তরীণ উৎসে ১৬ হাজার কোটি টাকা হ্রাস এবং বৈদেশিক উৎসে ১৪ হাজার কোটি টাকা কমেছে বলেও জানানো হয়।
বৈঠকে সেক্টরভিত্তিক বরাদ্দের বিষয়েও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে পরিবহন ও যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, গৃহায়ণ ও কমিউনিটি সুবিধাবলী, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন এ ৫ খাতে ১ লাখ ২১ হাজার ১১৮ কোটি টাকা বা ৬০ দশমিক ৫৪ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। এ বিভাগের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা, যদিও এটি মূল এডিপির তুলনায় কিছুটা কম। এরপর রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং বিদ্যুৎ বিভাগ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।
সংশোধিত এডিপিতে বিশেষ উন্নয়ন সহায়তার জন্যও আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো যুক্ত করলে সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা।
এ সংশোধিত এডিপিতে মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্পের সংখ্যাই বেশি। পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পের মধ্য থেকে ২৮৬টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়াও বরাদ্দবিহীনভাবে অননুমোদিত নতুন ৮৫৬টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির সুবিধার্থে বরাদ্দবিহীন অঅনুমোদিত নতুন ১৫৭টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প সংখ্যা ৩৫টি। পিপিপি প্রকল্প ৮১টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে সমাপ্তির জন্য নির্ধারিত প্রকল্প ২৮৬টি। দেশের সম্পদ, বৈদেশিক অর্থায়ন ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় এ সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।