প্রকাশ: সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম আপডেট: ১২.০১.২০২৬ ৫:৫০ পিএম (ভিজিট : ১৮৩)

X
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবন পরিদর্শনে এসে ক্রিকেটের চলমান ইস্যু নিয়ে আবারও কথা বলেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিরাপত্তা বিভাগ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাফুফে ভবনে পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসিফ নজরুল বলেন, আইসিসির নিরাপত্তা টিমের চিঠিতে তিনটি কারণে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা শঙ্কা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো—বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি। অন্য দুটি কারণ হলো, বাংলাদেশ দলের সমর্থকদের জাতীয় জার্সি পরে চলাচল এবং ভারতের আসন্ন নির্বাচন ঘনিয়ে আসা।
তিনি বলেন, “আইসিসির নিরাপত্তা টিম জানিয়েছে, এই তিনটি বিষয় থাকলে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়বে। এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে ভারতে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার মতো পরিবেশ নেই।”
ক্রীড়া উপদেষ্টা আরও বলেন, “আইসিসি যদি মনে করে আমরা আমাদের সেরা বোলারকে বাদ দিয়ে দল গঠন করবো, সমর্থকেরা বাংলাদেশের জার্সি পরতে পারবে না, কিংবা ক্রিকেট খেলার জন্য দেশের নির্বাচন পিছিয়ে দেবো তাহলে এর চেয়ে উদ্ভট ও অযৌক্তিক প্রত্যাশা আর হতে পারে না।”
ভারতের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, “ভারতে যে উগ্র সাম্প্রদায়িক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং গত ১৬ মাস ধরে বাংলাদেশবিরোধী যে ক্যাম্পেইন চলছে, তার প্রেক্ষাপটে সেখানে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।”
তিনি দাবি করেন, আইসিসি যদি সত্যিকার অর্থে একটি বৈশ্বিক সংস্থা হয়ে থাকে এবং ভারতের প্রভাবমুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায়, তাহলে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজন করা উচিত। এ বিষয়ে বাংলাদেশ কোনো ধরনের আপস করবে না বলেও জানান তিনি।
বিকল্প ভেন্যু প্রসঙ্গে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, “শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান বা সংযুক্ত আরব আমিরাতে খেলতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু যেখানে আমাদের একজন খেলোয়াড়কে খেলতেই দেওয়া যাবে না সেখানে খেলতে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।”
এ সময় তিনি আইসিসির নিরাপত্তা টিমের পাঠানো চিঠির একটি কপি গণমাধ্যমকে দেওয়ার কথাও জানান।