
X
বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় পৌরসভার, ইউনিয়ন ও চরাঞ্চলসহ প্রায় এলাকায় এবার অন্যান্য বারের তুলনায় সরিষার আবাদ হয়েছে ব্যাপক। সরিষা মাঠে ইতিমধ্যে বীজও আসতে শুরু করেছে। রেকর্ড পরিমাণ জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। বেড়ে উঠা গাছ আর ফুল দেখে অধিক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ও চরাঞ্চলে হলুদের সমারোহ দেখতে পাওয়া যায়। ফুলে ফুলে ভরে গেছে সরিষা ক্ষেত। সরিষার মাঠে ইতোমধ্যে দেখা মিলছে মৌমাছির মধু আহরণের দৃশ্য। গত বছর স্থানীয় বাজারে উন্নত জাতের সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা এবারও সরিষা চাষে অধিক আগ্রহী হয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রত্যেক সরিষা চাষি অধিক মুনাফা লাভ করবে বলে মনে করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানাযায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১ টি পৌরসভা ও ১২ টি ইউনিয়নে ৩৫ শ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে চাষ হয়ছে ৩৩ শ হেক্টর জমিতে প্রায় লক্ষ্যমাত্রা ছুঁইছুঁই করছে। গত বছরের তুলনায় ১শ হেক্টর জমি বেশি চাষ হয়েছে সরিষা। আর কৃষকরা তাদের অধিকাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাত টরি-৭ বারি- ১৪ বারি-১৭, বারি-১৮, বারি- ২০ বিনা- ৯, বিনা-৪ জাতের সরিষা চাষ করেছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এবছর উপজেলার ২৭ শ ৬০ জনকে ১ কেজি করে উন্নত জাতের সরিষা বীজ ও ১০ কেজি ডিএপি ১০ কেজি করে এমওপি সার বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বছরের পর বছর স্থানীয় জাত চাষ করে ফলন কম হওয়া ও উৎপাদনে সময় বেশি লাগার কারণে কৃষকরা সরিষা চাষ অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। তবে চলতি মৌসুমের শুরুতে উপজেলা কৃষি বিভাগ বারি-১৪,বারি-১৭, বারি-১৮,বারি-২০ বিনা-৯, বিনা-৪; এসব অধিক ফলনশীল জাতের সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। এ জাতের সরিষা মাত্র ৮০-৯০ দিনে ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘাতে ফলন হয় প্রায় ৬-৭ মণ। সরিষা কেটে ওই জমিতে আবার বোরো আবাদ করা যায়। এতে কৃষি জমির সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
উপজেলার বড় কুতুবপুর গ্রামের সরিষা চাষি জিয়াউর রহমান বলেন, এ বছর তিন বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। সরিষার গাছ ভালো হয়েছে। ফুলে ছেয়ে গেছে পুরো জমি আশা করছি বাম্পার ফলন হবে। কৃষি অফিসের সোহেল ভাই প্রতিনিয়ত খোঁজ খবর নিচ্ছেন, যখন যে পরামর্শ লাগতিছে উনি জমিতে এসে তা দিয়ে যান।
উপজেলার বড় কুতুবপুর তালতলা গ্রামের কৃষি মোজাম প্রামাণিক বলেন, কৃষি অফিসের পরামর্শে চার বিঘা জমিতে উন্নত জাতের সরিষার আবাদ করেছি। গত বছর বাজারে সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় এবারও সরিষা চাষ করেছি। ফলন ভালো ও দাম পেলে আগামী বছর সরিষা চাষে আরও অনেকেই ঝুঁকবে। এছাড়া এ জাতের সরিষার চাষে জমিতে ধানের আবাদ ভালো হয় এবং বোরো চাষে খরচ কম হয়।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, কৃষকদের আমাদের পক্ষ থেকে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কৃষকের জমিতে গিয়ে যথাযথ পরামর্শ ও পরিচর্যার বিষয়ে দিক নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ বারি-১৪, বারি-১৭, বারি-১৮, বারি-২০ বিনা-৯, বিনা-৪, এসব অধিক ফলনশীল জাতের সরিষা চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। এ জাতের সরিষা মাত্র ৮০-৯০ দিনে ঘরে তোলা যায়। প্রতি বিঘাতে ফলন হয় প্রায় ৬-৭ মণ। এ সরিষা উত্তোলন করে ফের বোরো আবাদ করতে পারেন বলে এটাকে কৃষকরা ‘লাভের ফসল’ হিসেবে অভিহিত করে থাকেন।
তিনি আরও বলেন, বারি ও বিনা জাতের সরিষার গাছ লম্বা হওয়ায় এর পাতা মাটিতে ঝরে পড়ে জৈব সারের কাজ করায় জমির উর্বরতা শক্তি বাড়ে। এ জাতের সরিষা আবাদের পর ওই জমিতে বোরো আবাদে সারের পরিমাণ কম লাগে। তাই এ জাতের সরিষা চাষের জন্য আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্বুদ্ধ করি এবং বিভিন্ন উপকরণ সহায়তা দেই।