
X
সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার শহিদনগর এম এ জলিল উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ-(২০২৬) উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে হাম-রুবেলা টিকাদান এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকাল ১০টায় বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে ও জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘জীবনের সূচনায় মাতৃদুগ্ধ পানে, টেকসই উদ্যোগ বেগবান’।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, শিশুর জন্য মাতৃদুগ্ধই সবচেয়ে নিরাপদ, পুষ্টিকর ও পরিপূর্ণ খাদ্য। বর্তমানে দেশে জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধু মাতৃদুগ্ধ পান করানোর হার এখনও শতভাগে পৌঁছায়নি। এই হার আরও বৃদ্ধি করে ১০০ শতাংশে উন্নীত করাই বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালনের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বাজারে বিক্রি হওয়া গুঁড়া বা বিকল্প দুধ মাতৃদুগ্ধের সমপর্যায়ের নয়। এসব দুধের বেশিরভাগই বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়, ফলে একদিকে পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় হয়, অন্যদিকে দেশের অর্থও বিদেশে চলে যায়। তাই অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজনসহ সবাইকে শিশুদের জন্য অপ্রয়োজনে বিকল্প দুধ কেনা থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান তিনি।
পরে হাম-রুবেলা টিকার গুরুত্ব তুলে ধরে শিশুদের সময়মতো টিকাদান নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। হাম প্রতিরোধে করণীয় এবং টিকা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে।
সভার শেষ পর্বে ডেঙ্গু প্রতিরোধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় এডিস মশার প্রজননস্থল, ডেঙ্গু জ্বরের প্রাথমিক লক্ষণ, বাসাবাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি অপসারণসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন, বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি খন্দকার আরিফ হোসেন এমবিএস। বক্তব্যে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করলেই হবে না, স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিক হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। মাতৃদুগ্ধের গুরুত্ব, টিকাদান এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা যে জ্ঞান অর্জন করবে, তা পরিবার ও সমাজেও ছড়িয়ে দিতে হবে।
উল্লেখ্য, সচেতনতামূলক সভায় শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ (কনসালটেন্ট) ডা. তোফাজ্জল হোসেন, গাইনি বিশেষজ্ঞ (কনসালটেন্ট) ডা. জান্নাতুল ইসলাম, মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান মিয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক বিভিন্ন দিক নিয়ে পরামর্শমূলক বক্তব্য দেন। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।