প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২১ পিএম (ভিজিট : ৯৬)

X
কাজ অসমাপ্ত রেখেই ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের আওতাধীন ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে। এসব প্রকল্পে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১২ হাজার ৪৩৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রকাশিত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। একই দিন শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
বাতিল হওয়া উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র, খুলনার বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, বাংলাদেশ রেলওয়ের ২০০টি মিটারগেজ কোচ সংগ্রহ, পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া নদীবন্দর আধুনিকায়ন, বিভাগীয় শহরে ছয়টি টেলিভিশন স্টেশন নির্মাণসহ একাধিক সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।
আইএমইডির তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র প্রকল্পটি ২১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদিত হলেও মাত্র ৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের পর বাতিল করা হয়। দুর্বল সমীক্ষা, ত্রুটিপূর্ণ নকশা এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্ভাবনাকে এর প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাটুরিয়া–দৌলতদিয়া নদীবন্দর প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, নদীর মরফোলজিক্যাল পরিবর্তন এবং তীররক্ষা ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের পর প্রকল্পটি বাতিল করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব প্রকল্প বাতিল রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনার গুরুতর দুর্বলতার প্রতিফলন। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অপর্যাপ্ত ও নামমাত্র ফিজিবিলিটি স্টাডির কারণে বারবার এ ধরনের প্রকল্প ব্যর্থ হচ্ছে। সাবেক পরিকল্পনা সচিব এমডি মামুন-আল-রশিদ বলেন, জবাবদিহির অভাবই এই অপচয়ের মূল কারণ।
বিশ্লেষকদের মতে, স্বাধীন ও বাস্তবভিত্তিক সমীক্ষা এবং কঠোর জবাবদিহি ছাড়া রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের এই প্রবণতা বন্ধ করা সম্ভব নয়।