গুমের শিকার আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন বলেছেন, নিখোঁজ থাকার সময় তার চার বছর বয়সী সন্তান খেলার সাথীদের বলত— “আমার বাবা মারা গেছে।” পরিবারের সদস্যদের আহাজারি ও বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে অবুঝ শিশুটি এমন ধারণা করে নিয়েছিল যে তার বাবা আর বেঁচে নেই।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভাটি সঞ্চালনা করেন ‘মায়ের ডাক’ সংগঠনের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি।
গুম থাকার সময় প্রশাসনের অমানবিক আচরণের বর্ণনা দিতে গিয়ে খোকন বলেন, নরসিংদী থানা থেকে একসময় তার স্ত্রীকে ফোন করে জানানো হয় যে খোকনের লাশ থানায় রয়েছে এবং তা নিয়ে যেতে বলা হয়। এই খবর শুনে তার স্ত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে জানা যায়, সেটি খোকনের লাশ ছিল না।
তিনি অভিযোগ করেন, গুম হওয়া পরিবারগুলোকে শুধু মানসিকভাবে নয়, আইনগতভাবেও চরম বাধার মুখে রাখা হয়েছিল। তার ভাষায়, প্রশাসন একটি ‘ব্যারিয়ার’ তৈরি করেছিল, যার ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বাসা থেকে বের হতে পারত না। এমনকি থানায় গিয়ে জিডি করা বা আদালতে যাওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা ও অভিভাবকত্ব প্রসঙ্গে খোকন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া নির্যাতিত পরিবারগুলোর প্রকৃত অভিভাবক ছিলেন এবং তার সান্নিধ্যে গেলে ভুক্তভোগীরা স্বস্তি পেতেন।
বর্তমানে তার অনুপস্থিতিতে পরিবারগুলো তারেক রহমানকে অভিভাবক হিসেবে দেখছেন উল্লেখ করে খোকন বলেন, “অনেক পরিবার জানে না তারা তাদের প্রিয়জনকে আর কখনো ফিরে পাবে কি না। তবুও এই কঠিন সময়ে নেতার সমর্থন ও ছায়া হয়ে পাশে থাকাই আমাদের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা।”