
X
রক্তচাপ কমানোর কথা উঠলেই বেশিরভাগ মানুষ ওষুধ, লবণ কমানো আর কড়াকড়ি ডায়েটের কথাই ভাবেন। তবে অনেকের ধারণা, প্রতিদিন খাবারের তালিকায় কলা রাখলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কিন্তু সত্যিই কি একটি মাত্র ফল এত বড় ভূমিকা রাখতে পারে—এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা।
কলা খাওয়ার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কী ঘটে
একটি মাঝারি আকারের কলা খেলে শরীরে প্রায় ৪২০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম প্রবেশ করে। এই খনিজ উপাদান রক্তনালির দেয়ালের পেশিকে শিথিল করে, যার ফলে রক্তনালি কিছুটা প্রসারিত হয়। এতে রক্ত চলাচল সহজ হয় এবং চাপ কমতে সাহায্য করে। এই প্রক্রিয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ভ্যাসোডাইলেশন।
তবে চিকিৎসকদের মতে, একদিনে বা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রক্তচাপে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। কলার আসল উপকার পেতে হলে নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়।
কলা নিয়ে ভুল ধারণা যেগুলো প্রচলিত
অনেকেই মনে করেন—
দিনে একটি কলা খেলেই উচ্চ রক্তচাপ সেরে যাবে
ডায়াবেটিস থাকলে কলা খাওয়া একেবারেই নিষেধ
কলায় চিনি বেশি, তাই এটি ক্ষতিকর
বাস্তবে একটি কলা দৈনিক প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ জোগায়। গবেষণায় দেখা গেছে, রক্তচাপ কমাতে দিনে অতিরিক্ত ১৫০০ থেকে ৩৫০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম গ্রহণ করা হয়েছিল। তাই শুধু কলা খেয়ে সমাধান সম্ভব নয়, বরং এটি একটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ।
ডায়াবেটিস রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে কলা খেতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বির সঙ্গে কলা খেলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি অনেকটাই কমানো যায়।
এক সপ্তাহ নিয়মিত কলা খেলে কিডনির প্রতিক্রিয়া
টানা কয়েক দিন কলা খাওয়ার ফলে কিডনি ধীরে ধীরে শরীরে পটাশিয়ামের নিয়মিত সরবরাহের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তখন কিডনি অতিরিক্ত সোডিয়াম ও পানি বের করে দিতে শুরু করে। যেহেতু সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখে, তাই এটি কমলে রক্তের পরিমাণও কমে আসে এবং চাপ কমতে সাহায্য করে।
এ সময় শরীরের ফোলাভাব কমে, মাথা হালকা লাগে। তবে প্রস্রাবের পরিমাণ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে।