ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প থাকবে না: নির্বাচন কমিশন

কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, বিশেষ প্রতিনিধি

জাতীয়

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্ধারিত কোনো ভোটকেন্দ্রে ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

2026-01-19T16:23:48+00:00
2026-01-19T16:23:48+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প থাকবে না: নির্বাচন কমিশন
কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:২৩ পিএম   (ভিজিট : ১১১)
X

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে নির্ধারিত কোনো ভোটকেন্দ্রে ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবে না আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, আগের নির্বাচনগুলোর মতো এবারো ভোটকেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ক্যাম্প থাকবে না। বাহিনীগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তবে ভোটের আগে এসব ক্যাম্প অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ক্যাম্প থাকলে ভোটগ্রহণের দিনে জায়গার সংকট তৈরি হয়। এতে ভোটারদের সময় বেশি লাগে এবং স্বাভাবিক ভোটগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় সবদিক বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এক বৈঠকে নির্বাচন কমিশন এ নির্দেশনা দেয়। গত  (১১ জানুয়ারি) রোববার অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। সভায় নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই, এনএসআই, এনটিএমসি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার মহাপরিচালকরাসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়া একটি সূত্র জানায়, রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে সব বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা সেল গঠন করে তা সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখা হবে। বাহিনী মোতায়েন ও অভিযান সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রতি তিন দিনে অন্তত একটি অভিযান, যৌথ বাহিনীর চেকপোস্ট স্থাপন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, মিডিয়া সেল গঠন এবং নিয়মিত প্রেস ব্রিফিং করা হবে।

সূত্রটি আরো জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রভিত্তিক আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ করা হবে এবং সেনাবাহিনীর মুভমেন্ট দৃশ্যমান রাখা হবে। যৌথ বাহিনীর মূল লক্ষ্য হবে অবৈধ ও হারানো অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী ও পেশাদার অপরাধীদের আটক করা। তবে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারিত কোনো প্রতিষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্যাম্প স্থাপন করা হবে না। সব কার্যক্রম পরিচালনায় কমান্ড, কন্ট্রোল ও কোঅর্ডিনেশন এই তিন সি নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে এবং কোনো ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সংকীর্ণতা পরিহার করা হবে বলেও জানান তিনি।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সবশেষ বৈঠকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ১০টি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেগুলো হলো-

১. তফসিল ঘোষণার পর যেসব কমিটি এখনো গঠিত হয়নি, সেগুলো দ্রুত গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হবে।

২. সব বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা সেল গঠন করতে হবে।

৩. আইন-শৃঙ্খলা সেল রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে।

৪. অবৈধ ও হারানো অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী ও পেশাদার অপরাধীদের আটক করতে হবে।

৫. তিন দিনে অন্তত একটি অভিযান পরিচালনা করতে হবে।

৬. যৌথ বাহিনীর মাধ্যমে একাধিক চেকপোস্ট স্থাপন করতে হবে।

৭. আইন-শৃঙ্খলা ডিপ্লয়মেন্ট/মোতায়েন সমন্বয়ের মাধ্যমে করতে হবে এবং সেনাবাহিনীর মুভমেন্ট দৃশ্যমান রাখতে হবে।

৮. গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে স্থানীয় সরকারের চৌকিদার, দফাদার এবং আনসার ও ভিডিপি’র সহায়তা নিতে হবে।

৯. মিডিয়া সেল গঠন করতে হবে এবং অপারেশন ও অভিযানের বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করতে হবে।

১০. ভোটকেন্দ্রের জন্য নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো ক্যাম্প তৈরি করা যাবে না।

ওই বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, দেশের বর্তমান সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠান একটি জাতীয় অগ্রাধিকার এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার অপরিহার্য শর্ত।

এর আগে গত ২০ অক্টোবর, ২৭ নভেম্বর, ১৪ ডিসেম্বর ও ২০ ডিসেম্বর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করে এই সাংবিধানিক সংস্থাটি।

এদিকে সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে।

পরিপত্রে আরো বলা হয়েছে, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে প্রতি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন ১৫-১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৭-১৮ জন। মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ১৭ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দুর্গম ও বিশেষ এলাকায় সাধারণ ভোটকেন্দ্রে ১৬-১৭ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ১৭-১৮ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকবেন।

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল করতে সারাদেশে সেনা ও নৌবাহিনীর মোট ৯২ হাজার ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হবে। দেশের প্রতিটি উপজেলায় সেনাবাহিনীর একটি করে কোম্পানি দায়িত্ব পালন করবে। মোতায়েনকৃত বাহিনীর মধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্য থাকবেন ৯০ হাজার এবং নৌবাহিনীর ২ হাজার ৫০০ জন। এছাড়া ভোটের জন্য ১ লাখ পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যারা ভোটের দায়িত্ব পালন করবেন। ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন আনসার-ভিডিপি সদস্যও ভোটে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি বিজিবি, র‍্যাব, বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও ভোটের দায়িত্বে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।

নির্বাচন কমিশন তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে। চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার। সেদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা চলবে ভোটগ্রহণ।





Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy