বিএমইউ'র ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল সেমিনারে থাইরয়েড ক্যান্সার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়, বাংলাদেশে থাইরয়েড ক্যান্সারে অনেক মানুষ আক্রান্ত।
থাইরয়েড ক্যান্সারের আচরণ বুঝে চিকিৎসা দিতে হবে। বিশ্বব্যাপী গত তিন দশকে থাইরয়েড ক্যান্সারের প্রকোপ ক্রমবর্ধমান রয়েছে। বেশিরভাগ থাইরয়েড ক্যান্সার চিকিৎসার ফলে সম্পূর্ণ ভাল হয়ে যায়। খুব অল্প কিছু সংখ্যকের ফলাফল ভাল হয় না। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, অনেক থাইরয়েড ক্যান্সারের শুধুমাত্র আক্রান্ত অংশের অপারেশন করলেই (হেমিথাইরয়ডেক্টমি) দীর্ঘ দিন ভাল থাকে। বেশ কিছু থাইরয়েড ক্যান্সার দীর্ঘদিন ধরে স্থিতাবস্থায় থাকে কোনরকম ঝুঁকি তৈরি করে না।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রকাশিত প্রবন্ধে আরো উল্লেখ করা হয়, চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ রোগের আচরণ সম্পর্কে বুঝে চিকিৎসা দেয়া প্রয়োজন। এত রোগীর চিকিৎসা ঝুঁকি ও খরচ দুটোই কমে। খারাপ থাইরয়েড ক্যান্সারেরও বর্তমানে নানা রকম চিকিৎসা সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্যে আতংঙ্কিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেয়া জরুরি।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)'র এ ব্লক অডিটোরিয়ামে ‘থাইরয়েড নোডুল এন্ড ক্যান্সার: আপডেট এন্ড বিয়ন্ড' বিষয়ক ইউনিভার্সিটি সেন্ট্রাল সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। বিএমইউ'র অটোল্যারিংগোলজি হেড এন্ড নেক সার্জারি বিভাগের শিক্ষক ও হেড নেক সার্জারি ডিভিশিনের প্রধান অধ্যাপক ডা. কে এম এম আব্দুস সাত্তার তার উপস্থাপিত ‘প্যারাডিজম শিফট ইন দ্যা সার্জিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অফ থাইরয়েড ক্যান্সার’ প্রবন্ধে উপরোক্ত তথ্যসমূহ প্রকাশ করেন।
সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আফজালুন নেসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার।
সেন্ট্রাল সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সেন্ট্রাল সেমিনার সাব কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি ডা. খালেদ মাহবুব মুর্শেদ মামুন।
প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মোঃ মুজিবুর রহমান হাওলাদার তাঁর বক্তব্যে থাইরয়েড ক্যান্সার নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির সাথে সাথে এ বিষয়ে গবেষণার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
সেমিনারে নিনমাস এর পরিচালক ও থাইরয়েড ডিভিশন প্রধান অধ্যাপক ডা. একেএম ফজলুল বারী ‘দি থাইরয়েড মিস্ট্রি: ফাইডিংস এন্ড ফিক্সিং নোডুলস ’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। নতুন থাইরয়েড নোডুলস বিষয়ক প্রবন্ধ উপস্থাপনকারী অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম. ফজলুল বারী তাঁর প্রবন্ধে বলেন, "উচ্চ রেজোলিউশন আল্ট্রাসাউন্ডের কারণে থাইরয়েড নোডুলস এর প্রায় ৫০-৬৭ শতাংশ পর্যন্ত সনাক্ত করা সম্ভব হয়। যার ৬০ শতাংশের এর মত সলিড নোডুলস, এর মধ্যে ২ শতাংশ থাইরয়েড ক্যান্সার রয়েছে। এখন পর্যন্ত থাইরয়েড ক্যান্সার এর চিকিৎসায় রেডিও আয়োডিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেছে।"
ডা. ফজলুল বারী আরও বলেন, "নিনমাসে প্রায় ১০ হাজারের মত ক্যান্সার রোগী নিয়মিত ফলোআপে রয়েছেন এবং ২০২৫ সালে আরো ৫২০ জনের মত নতুন রোগী অর্ন্তভুক্ত হয়। বিনাইন নোডুলস চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি রেডিও ফ্রিকুয়েন্সির মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়। এই পদ্ধতিতে সুইয়ের মাধ্যমে টিউমারকে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং এই পদ্ধতিতে কোন ধরণের অজ্ঞান করার প্রয়োজন হয় না। ৩০ মিনিটের মধ্যে অ্যাবলেশন করা সম্ভব যা রোগীদের কম খরচে ঝামেলাহীন চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হয়।"