
X
বান্দরবানের লামায় পাহাড়ের ঐতিহ্যবাহী ‘মগ বাজার’ বর্তমানে স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সপ্তাহের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার এখানে অস্থায়ী হাট বসে, যা এখন পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
পাহাড়ের তাজা পণ্যের সমাহার
একসময় এই বাজারে কেবল পাহাড়িরা তাদের জুমচাষে উৎপাদিত তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল বিক্রি করতে আসতেন। সবজি বিক্রির টাকা দিয়ে তারা পরিবারের জন্য শুঁটকি, সামুদ্রিক মাছ ও মাংস কিনে বাড়ি ফিরতেন। তবে সময়ের পরিবর্তনে এখন পাহাড়িদের পাশাপাশি বাঙালি বিক্রেতারাও এই বাজারে নিয়মিত বসছেন।
বাজারে পাওয়া যাচ্ছে
জুমের তাজা শাক-সবজি ও ফলমূল, বিনি চাল, কাউন চাল ও বিশুদ্ধ খাতি মধু, আদা, হলুদ, পেঁয়াজ ও রসুন, সামুদ্রিক মাছ, মাংস, শুটকি, কাকড়া, এবং দেশি হাঁস-মুরগি।
পর্যটকদের ভিড় ও খাবারের স্বাদ
শহর অঞ্চলের চেয়ে একদম ভিন্ন ও সতেজ পণ্য পাওয়ায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিরিঞ্জা ভ্যালী ও সুখিয়া ভ্যালীতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা এখানে ভিড় জমান। বিশেষ করে জুমের তাজা সবজি ও পাহাড়ি ফলমূল কিনতে পর্যটকদের ঢল নামে। কেনাকাটার পাশাপাশি পাহাড়ের জনপ্রিয় খাবার ‘মুন্দি’ খেতেও ভিড় জমান দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ। এদের মধ্যে পাহাড়ি নারী ও শিশুদের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও ব্যবস্থাপনা
বাজারে পণ্য বিক্রি করতে আসা এক পাহাড়ি নারী জানান, "আমরা জুমের সবজি বিক্রি করে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ ও ওষুধের টাকা জোগাড় করতে পারছি। এই বাজারে কোনো পণ্যই অবিক্রিত থাকে না।"
লামা পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর অংথোয়াই মার্মা জানান, যে কেউ চাইলে নিয়ম মেনে এই বাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারেন। বিক্রেতাদের জন্য বসার সুব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বাজারের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিদিন রাতে দ্রুত বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
২৯৩ ছাগল খাইয়া মৌজার হেডম্যান মংক্যচিং চৌধুরী বলেন, বাজারে মধ্যে অস্থায়ী মগ বাজার এটি অনেক পুরানো বাজার। এ মগ বাজারে হরেক রকমের পাহাড়ী তরকারি কিনতে হার্ট বাজার দিন নারী পুরুষ সকলের ভির জমান। পণ্যের দাম কম, তাজা ও ফরমালিন মুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের বেশ চাহিদা রয়েছে।