প্রকাশ: রোববার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩৯ পিএম (ভিজিট : ৯৮)

X
বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঢুকে হামলার চেষ্টা চালিয়েছে এক যুবক। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। তবে ঘটনার সময় জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় তিনি অক্ষত রয়েছেন। হামলার পরপরই অভিযুক্ত যুবককে আটক করে পুলিশ।এছাড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
আটক যুবকের নাম ইব্রাহিম খলিল (৩০)। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাশবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ইউনুস হাওলাদারের ছেলে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অফিসিয়াল কাজে জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার সকালে বরগুনার তালতলী উপজেলায় অবস্থান করছিলেন। ফলে তার অফিস কক্ষটি ফাঁকা ছিল। এ সুযোগে ইব্রাহিম খলিল গোপনে একটি ১৪–১৫ ইঞ্চি লম্বা সেলাই রেঞ্জ (দেশীয় অস্ত্র) নিয়ে জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশ করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সিএ মো. জহিরুল ইসলাম বিষয়টি টের পেয়ে কক্ষে ঢুকে ইব্রাহিমকে সেখানে প্রবেশের কারণ জানতে চান। তখন ইব্রাহিম সঙ্গে থাকা রেঞ্জ দিয়ে জহিরুল ইসলামকে আঘাত করেন। জহিরুলের চিৎকারে কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা এগিয়ে এসে হামলাকারীকে আটক করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে।
আহত অফিস সহকারী জহিরুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই ওই যুবক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিল এবং বারবার জেলা প্রশাসকের খোঁজ নিচ্ছিল। সকাল ১০টায় অফিস খোলার সময় হঠাৎ করে তাকে ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং দৌড়ে জেলা প্রশাসকের কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করে।তিনি আরও জানান, যুবকের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তার কোমরের দিকে হাত দিলে সেখানে একটি টিউবওয়েল খোলার রেঞ্জ পাওয়া যায়। অস্ত্রটি জব্দ করতে গেলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সেটি ছিনিয়ে নিয়ে তার হাতে আঘাত করে।
বরগুনা সদর থানা পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইব্রাহিম খলিলকে আটক করা হয়। বর্তমানে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা চলছে।
বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন,ইব্রাহিম খলিল নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস জানান, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।