প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:১২ এএম (ভিজিট : ৮১)

X
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বল্প মেয়াদে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, কর সংস্কার, ডিজিটালকরণ ও বাণিজ্য সহজীকরণে একাধিক যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপ ইতোমধ্যে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি ও কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, রাজস্ব নীতি প্রণয়ন ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আলাদা করতে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এনবিআর মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার ২২৩ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। কর ফাঁকি রোধ, মনিটরিং জোরদার এবং পূর্বে ফাঁকি দেওয়া কর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে এই অগ্রগতি এসেছে বলে জানানো হয়।
ডিজিটাল রাজস্ব ব্যবস্থার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ১০ বছর মেয়াদি মিডিয়াম অ্যান্ড লং টার্ম রেভিনিউ স্ট্র্যাটেজি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইন রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৩৪ লাখের বেশি ই-রিটার্ন জমা পড়েছে।
ভ্যাট ব্যবস্থায় অনলাইন নিবন্ধন, ই-রিটার্ন, ই-পেমেন্ট ও ই-রিফান্ড চালু করা হয়েছে। বিশেষ ক্যাম্পেইনে এক মাসেই ১ লাখ ৩১ হাজার নতুন ভ্যাট নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে।
বৃহত্তর জনস্বার্থে হজের টিকিটে শুল্ক অব্যাহতি, মেট্রোরেলে ভ্যাট ছাড়, রমজানে খেজুরসহ নিত্যপণ্যে কর ও শুল্ক কমানো এবং মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। নতুন ব্যাগেজ বিধিমালায় যাত্রীদের শুল্কমুক্ত মোবাইল আনার সুযোগও দেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস ব্যবস্থায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইন্ডো চালু, অনলাইন লাইসেন্সিং, বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণ ও বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা কনটেইনার নিলামে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে, নীতি সংস্কার ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এনবিআর স্বল্প সময়েই রাজস্ব ব্যবস্থায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।