হাকালুকি হাওরে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জলজ গাছের চারা রোপণ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

সারাবাংলা

এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাওরের বিভিন্ন বিলে ও খালের পাড়ে

2026-02-01T15:39:01+00:00
2026-02-01T15:39:01+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
হাকালুকি হাওরে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জলজ গাছের চারা রোপণ
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম   (ভিজিট : ১৯২)
X

এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হাওরের বিভিন্ন বিলে ও খালের পাড়ে হিজল, করচ ও বরুনসহ মোট ৩৯ হাজার ৫০০ জলজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে হাকালুকি হাওর মাছ ও অতিথি পাখির নিরাপদ অভয়াশ্রমে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটন বিকাশ এবং হাওরপাড়ের মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

একসময় হাকালুকি হাওরে বিস্তীর্ণ জলজ বন ছিল, যা বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। তবে স্বাধীনতার পর হাওরের জমির দায়িত্ব বন বিভাগ থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কাছে চলে যাওয়ায় পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে জলজ বন উজাড় হতে থাকে। মানুষের অনিয়ন্ত্রিত আহরণ ও বন কেটে জমি তৈরির ফলে ধীরে ধীরে এসব বন বিলুপ্ত হয়। এর প্রভাবে হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।

এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৯ সালে হাকালুকি হাওরকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ২০০০ সালে পরিবেশ অধিদপ্তর হাওরটির প্রথম উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ২০০৩ সালে পরিবেশ অধিদপ্তরের ‘সিডব্লিউবিএমপি’ প্রকল্প চালু হওয়ার সময় হাওরে মাত্র দুটি স্থানে সীমিত পরিসরে হিজল ও করচ গাছ দেখা যেত।

পরবর্তীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিডব্লিউবিএমপি প্রকল্পের আওতায় সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) হাকালুকি হাওরের বিভিন্ন কান্দায় হিজল ও করচের চারা রোপণ করে এবং কয়েকটি কান্দা সংরক্ষণের আওতায় আনে। এর ফলে জল্লা বিল, মালাম বিল, সাতবিলা বিল, চৌলা বিল, পিংলা বিল, টোলার বিল, নাগুয়া-লরিবাই বিল, কাংলি বিল, শিংজুড়ি বিল, হাওয়া-বর্না বিলসহ কাটা গাং ও বিরালী খালের পাড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা জলজ বন এখন দৃশ্যমান। এসব বনভূমির আয়তন আনুমানিক ১৬০ হেক্টর।

হাকালুকি হাওরে যেসব এলাকায় সম্প্রতি এসব জলজ উদ্ভিদের চারা লাগানো হয়েছে তা হলো- কুলাউড়া উপজেলার নাগুয়া-লরিবাই বিলের কান্দায় ৫ হাজার, জুড়ী উপজেলার চাতলা, নামা তরুল, নাগুয়া-ধলিয়া বিলের কান্দায় ১৪ হাজার ৫শত বড়লেখা উপজেলার জল্লা ও মালাম বিলের কান্দায় ১৫হাজার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার বিরালী খালের পাড়ে ৫হাজার হিজল, করচ ও বরুন গাছের চারা রোপণ করা হয় এবং এসব চারা রক্ষায় ৮ জন পাহারাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে গরু-মহিষের দ্বারা ক্ষতি থেকে রক্ষায় দেওয়া হয়েছে বাঁশের বেড়া।

সরেজমিনে হাকালুকি হাওরে গেলে দেখা যায়, নতুন সৃজিত জলজ গাছের চারা নতুন কুড়ি মেলেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের আগেই চারাগুলো ডালপালা মেলতে শুরু করবে। বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে গেলেও চারাগুলো মরবে না বলে জানান চারা লাগানোর কাজে নিয়োজিতরা।

হাকালুকি হাওরে কর্মরত সিএনআরএস নবপল্লব কর্মকর্তা তৌহিদুর রহমান জানান, এইসব জলজ বন সংরক্ষণে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) ফরেন এন্ড কমনওয়েলথ ডেভেলপমেন্ট অফিসের অর্থায়নে ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের মাধ্যমে ১১ জন পাহারাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে হাকালুকি হাওরে জলজ বনের পরিমান বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন বিল ও খালের কান্দায় ৩৯ হাজার ৫ শত  হিজল, করচ ও বরুন গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে হাকালুকি হাওরে বর্ষায় মাছ এবং শীতকালে অতিথি পাখির অভয়াশ্রম হবে। সর্বোপরি হাওরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ফিরে আসবে।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy