
X
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯০ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে চান বলে জানিয়েছে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ)।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ‘আনকভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এক জরিপ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
জরিপ প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া ভোটারদের ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া সাবেক আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দিতে চান বলে জানিয়েছেন।
ভোটদানের ক্ষেত্রে দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ভোটাররা। জরিপ অনুযায়ী, ৬৭ শতাংশের বেশি ভোটার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে ভোট দেওয়ার প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখছেন।
জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ বলেন, ‘ভোটাররা মূলত দেখছেন কে দুর্নীতি দমন করতে পারবে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’
জরিপে আরও উঠে আসে, এখনও প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ টেলিভিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক খবর সংগ্রহ করেন। তবে ইতিবাচক দিক হলো, ৭৩ শতাংশ ভোটার অন্তত দুটি উৎস থেকে তথ্য যাচাই করেন।
তবে নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। জরিপে ২০ শতাংশ ভোটার ভোট নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ভোট দিতে যাওয়ার পথে বাধা, ব্যালট বক্স ছিনতাই এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভোট জালিয়াতির আশঙ্কার কথাও উঠে এসেছে।
ভোটকেন্দ্রে ভয়ভীতি প্রদর্শন নিয়ে শঙ্কার হার হিসেবে জরিপে দেখা যায়—
● বিএনপির ভোটারদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ
● এনসিপির ভোটারদের মধ্যে ৭৩ শতাংশ
● জামায়াতের ভোটারদের মধ্যে ৭১ শতাংশ
এছাড়া জরিপে অংশগ্রহণকারী সাবেক আওয়ামী লীগ ভোটারদের মধ্যে ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ বিএনপি, ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ জামায়াত এবং ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াত, ২৭ শতাংশ বিএনপি এবং ১৭ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ ভোটার প্রতীক দেখে এবং ৩০ দশমিক ২ শতাংশ প্রার্থীর যোগ্যতা বিবেচনা করে ভোট দেবেন বলেও জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে জরিপে উঠে আসে, ভোটারদের কাছে ধর্মীয় ইস্যুর চেয়ে দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে এবং ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ধর্মীয় ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভোটাররা।