দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প, জনমনে উদ্বেগ

বুলেটিন ডেস্ক

জাতীয়

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভূতত্ত্ব

2026-02-05T10:17:00+00:00
2026-02-05T10:47:52+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প, জনমনে উদ্বেগ
বুলেটিন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৭ এএম  আপডেট: ০৫.০২.২০২৬ ১০:৪৭ এএম  (ভিজিট : ৫৮)
X

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সম্প্রতি ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ভূতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব কম্পনের পেছনে প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট উভয় ধরনের কারণ কাজ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠের নিচে অবস্থিত টেকটোনিক প্লেটগুলো সবসময়ই ধীরে ধীরে নড়াচড়া করে। প্লেটগুলোর সংযোগস্থল বা ভূ-ফাটলে দীর্ঘদিন ধরে যে চাপ জমা হয়, তা হঠাৎ মুক্ত হলে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়। দেশের কিছু এলাকায় এসব ফাটল সক্রিয় থাকায় সেখানে স্থানীয়ভাবে কম্প অনুভূত হচ্ছে।

ভূ-গর্ভস্থ চাপ ও জলস্তরের প্রভাব
ভূ-গর্ভে জলস্তর ও চাপের পরিবর্তনও ক্ষুদ্র ভূমিকম্পের একটি বড় কারণ। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন, খনি কার্যক্রম কিংবা প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের ফলে ভূ-গর্ভস্থ চাপের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ভূমি কম্পনের ঝুঁকি বাড়ায় বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

সক্রিয় প্রাকৃতিক ভূ-ফাটল
দেশের কিছু অঞ্চলে প্রাকৃতিক ভূ-ফাটল সক্রিয় রয়েছে। এসব ফাটলে চাপের পরিবর্তন ও নড়াচড়ার কারণেই মাঝেমধ্যে ক্ষুদ্র থেকে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, এমন এলাকায় ভবন নির্মাণের আগে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

মানবসৃষ্ট কার্যক্রমের ভূমিকা
নির্মাণ কাজ, ভূ-গর্ভস্থ ড্রিলিং, খনি এবং গ্যাস বা তেল উত্তোলনের মতো মানবসৃষ্ট কর্মকাণ্ডও ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রাকৃতিক ভূ-ফাটলের সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের চাপ যুক্ত হলে কম্পনের তীব্রতা কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

সম্ভাব্য ঝুঁকি ও সতর্কতা
বিশেষজ্ঞরা জানান, অধিকাংশ ভূমিকম্পই ক্ষুদ্র হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম। তবে দীর্ঘ সময় ধরে ঘন ঘন কম্পন ঘটলে মাটির স্থিতিশীলতা কমে যেতে পারে, যা পুরোনো ও দুর্বল ভবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করা যেমন শক্ত টেবিলের নিচে, দরজার ফ্রেমে বা উন্মুক্ত জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় নতুন ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা অনুসরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে মনিটরিং ও জরুরি প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ভূতত্ত্ববিদরা আরও সতর্ক করে বলেন, ঘন ঘন ক্ষুদ্র কম্পন স্বাভাবিক হলেও যদি এর সঙ্গে ভূমি ফাটল বা শক্তিশালী ভূমিকম্প যুক্ত হয়, তবে তা বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস হতে পারে। তাই স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা, প্রস্তুতি ও নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




  বিষয়:   ভূমিকম্প 



Loading...
Loading...


জাতীয় এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy