
X
আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেল থেকে পলাতক আসামিদের সক্রিয় হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দিদের মধ্যে এখনো ৭ শতাধিক আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এদের মধ্যে খুন, ধর্ষণ, জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরাও রয়েছে।
এদিকে, সে সময় কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের সবগুলোও এখনো উদ্ধার সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের আগে ও পরে দেশের ১৭টি কারাগারে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। নরসিংদী, শেরপুর ও সাতক্ষীরা কারাগার থেকে সব বন্দি পালিয়ে যায়। এর মধ্যে নরসিংদী কারাগারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ৮২৬ জন কয়েদি পালিয়ে যায়। শেরপুর কারাগার থেকে ৫০০ এবং সাতক্ষীরা থেকে পালায় ৬০০ বন্দি।
এছাড়া কুষ্টিয়া কারাগার থেকে পালিয়ে যায় ১০৫ জন এবং কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে পালিয়ে যান হত্যা মামলার ২০০ আসামি। ওই সময় সারা দেশে জেল পলাতক বন্দির মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২ হাজার ২৩২ জনে। পরবর্তীতে ১ হাজার ৫১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো ফেরারি রয়েছে ৭১৩ জন।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় কারাগার থেকে চাইনিজ রাইফেল, শটগানসহ মোট ৬৭টি অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে এখনো ২৭টি অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোতাহের হোসেন জানান, দুই হাজারের বেশি বন্দি পালিয়ে গিয়েছিল। নরসিংদী ও শেরপুর কারাগারের সব বন্দিই পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে কেউ আত্মসমর্পণ করেছে, কেউ গ্রেপ্তার হয়েছে। পলাতকদের মধ্যে শুধু জঙ্গি নয়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও রয়েছে।
পলাতক বন্দিদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা রয়েছে। তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, “এই আসামিরা কারাগারের বাইরে থাকা মানেই নির্বাচনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও এটি গুরুতর ঝুঁকি।”
দেড় বছর ধরে একাধিক অভিযান চালানো হলেও এখনো সব পলাতক কয়েদিকে গ্রেপ্তার কিংবা লুট হওয়া সব অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।