প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৭ পিএম (ভিজিট : ১২৮)

X
যুক্তরাষ্ট্রের ধনকুবের জেফরি এপস্টেইন কেবল একজন ভয়ংকর যৌন অপরাধীর নামই নয়; তিনি এ যুগের ক্ষমতা, ধনসম্পদ ও প্রভাবের অন্ধকার দিকের প্রতীক হিসেবেও পরিচিত। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত ৩০ লাখ পৃষ্ঠার নথি এই অন্ধকারকে আরও গভীর করেছে। এতে বহু মানুষের জীবন তছনছ হয়েছে, কারও সংসার ভেঙেছে, অনেককে সামাজিকভাবে নিগৃহীত হতে হয়েছে, আর কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
নথি প্রকাশের পর ভুক্তভোগীদের পরিচয় ফাঁস হওয়ার অভিযোগ ওঠে। তাদের আইনজীবীরা জানান, ত্রুটিপূর্ণ সম্পাদনার কারণে প্রায় ১০০ জনের বেশি ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত তথ্য, যেমন ই-মেইল ঠিকানা ও আপত্তিকর ছবি, প্রকাশ পেয়েছে। ভুক্তভোগীরা এটিকে ‘চরম আপত্তিকর’ বলে অভিহিত করেছেন এবং বলেন, তাদের যাচাই-বাছাই ও মানসিক ক্ষতি এভাবে হওয়া উচিত ছিল না।
বিচার বিভাগ ত্রুটি স্বীকার করে জানিয়েছে, ভুলগুলো ‘প্রযুক্তিগত’ বা ‘মানবিক’ কারণে হয়েছে। যেসব নথি নিয়ে অভিযোগ ওঠে সেগুলো পরবর্তীতে সংশোধনের জন্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নতুন অনুরোধগুলোও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রকাশের শর্ত ছিল ভুক্তভোগীদের পরিচয় গোপন রাখা, যা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
বিভাগের ভুলে ভুক্তভোগীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। একজন ভুক্তভোগী জানান, তার ব্যাংক হিসাবের তথ্য ফাঁস হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকিও পেয়েছেন। নারীবাদী আইনজীবী গ্লোরিয়া অলরেড বলেন, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের নামের উপর কেবল দাগ টানা হয়েছে, যা থেকে নাম পড়া সম্ভব, আবার কিছু ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেগুলো আগে কখনো প্রকাশ হয়নি।
এই নথিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের নাম থাকায় রয়েল ফ্যামিলি বিতর্কের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে সরকারি তথ্য পাচারের অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে। ধনকুবের বিল গেটসের নামও নথিতে থাকায় তাঁর সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ইলন মাস্ক ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের নামও জড়িয়েছে। দীর্ঘদিন তারা সাক্ষ্য দিতে রাজি ছিলেন না, তবে এখন কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন।