প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৬ পিএম (ভিজিট : ১৬৬)

X
জামায়াতের আমিরের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকডের অভিযোগে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের মামলায় গ্রেপ্তার বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আজকের আসামি (ছরওয়ার) যে কাজ করেছেন, সেটা স্বৈরাচারি সরকারের পেতাত্মা হিসেবে করেছেন। স্বৈরাচারের পেতাত্মা ওনার ওপরে ভর করেছে। ওনার কী কাজ ছিল যে, জামায়াত আমিরের মতো সম্মানিত লোকের আইডি হ্যাক করতে হবে? তার মতো লোককে এ আসামি কোন কারণে হয়রানি করলো? উনি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এটা করেছেন। মহিলা ভোটার যেহেতু অনেক, এ কারণে তাদেরকে উত্তেজিত করার জন্য জামায়াতের আমিরের নামে ইচ্ছাকৃতভাবে এটা করেছেন।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে উদ্দেশ করে আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘এই দেশে শাক-পাতা চুরি করলেও ৭/৮ দিন রিমান্ড চাওয়া হয়। কী কারণে আসামির রিমান্ড চাওয়া হয়নি জানি না। নৈরাজ্য সৃষ্টি করার জন্য এটা করেছেন। তার জামিন তো হবেই না। আসামির বিরুদ্ধে রিমান্ড আবেদন করা উচিত ছিল। কারণ, এখানে জিজ্ঞাসাবাদের ব্যাপার আছে। উনি দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য এটা করেছেন।’
রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আদালতে বলেন, ‘যেহেতু আসামি ছরওয়ারের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে, এজন্য তাকে কারাগারে পাঠানো হোক। পরে তদন্ত করে যখন দরকার রিমান্ড চাওয়া হবে। যেহেতু আজকে রিমান্ড চায়নি, এজন্য তাকে আপাতত কারাগারে পাঠানো হোক।’
আদালতে বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ার বলেন, ‘আমি সজ্ঞানে বলছি, কয়েকদিন পর অবসরে যাব। এ সময়ে আমার হাত দিয়ে এ বয়সে এসব কাজ হয়নি। এমনকি, এসব কখনও কল্পনা করি নাই, সত্যি বলছি। আমি সবকিছু দিয়েছি পুলিশকে তদন্ত করার জন্য। তারা তদন্ত করে দেখুক, কিছু পায় কি না। আমি নিজেকে একশো ভাগ নির্দোষ দাবি করছি।’
উল্লেখ্য, গত শনিবার জামায়াতের আমিরের এক্স হ্যান্ডল থেকে ইংরেজিতে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের একটি অংশে লেখা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি, যখন নারীদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হন। এটি অন্য কিছু নয়; বরং পতিতাবৃত্তির অন্য একটি রূপ।’