প্রকাশ: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:১৪ পিএম (ভিজিট : ৯১)

X
সংগৃহীত ছবি
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের উপকণ্ঠে একটি শিয়া মসজিদে গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বন্দুকধারীর গুলিবর্ষণ ও আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, নিরাপত্তারক্ষীরা হামলাকারীকে আটকানোর চেষ্টা করলে তিনি নামাজ শুরুর পরপরই খাদিজা তুল কুবরা ইমামবারায় মুসল্লিদের মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের আগে গুলির শব্দ শোনা যায়।
হামলার পর মসজিদের ভেতরে রক্তাক্ত মরদেহ, ধ্বংসস্তূপ ও ভাঙা কাচ ছড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। আহত অনেককে মসজিদ প্রাঙ্গণের বাগানে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে। কর্মকর্তারা জানান, হামলার সময় সেখানে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ দাবি করেন, হামলাকারীর আফগানিস্তানে যাতায়াতের ইতিহাস ছিল এবং তিনি ভারতকে এই হামলার পেছনে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। তবে নয়াদিল্লি এ অভিযোগকে “ভিত্তিহীন” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। আফগানিস্তানও হামলার নিন্দা জানিয়ে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এক বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের সফরের কারণে হামলার আগেই রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া ছিল। পাকিস্তানে সংখ্যালঘু শিয়া সম্প্রদায় অতীতেও আইএসসহ বিভিন্ন উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর হামলার লক্ষ্য হয়েছে, যদিও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ইসলামাবাদে এ ধরনের হামলা বিরল।
সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে প্রাণঘাতী হামলা এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে পাকিস্তাজুড়ে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটেই এই হামলা ঘটল।