
X
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশন ঘোষণা করেছে যে দেশের সব ভোটকেন্দ্রকে ভোটগ্রহণের দিন সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করতে হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠি দেশের সব রিটার্নিং অফিসারকে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটগ্রহণ চলাকালীন সময় ভোটকেন্দ্রে কোনো ধূমপান বা তামাকজাত পণ্য ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রকে সুষ্ঠু, স্বাস্থ্যকর এবং নিরাপদ পরিবেশে রূপান্তর করা হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভোটার ও কর্মকর্তাদের সচেতনতা তৈরি, কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড স্থাপন এবং প্রয়োজনমতো নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। ইসি আশা করছে, ধূমপানমুক্ত কেন্দ্রের মাধ্যমে ভোটাররা আরও মনোযোগী ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ভোট প্রদান করতে পারবেন।
এই পদক্ষেপ দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী অঞ্চলে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভোটকেন্দ্রে ধূমপানমুক্ত নীতি মানার মাধ্যমে শুধু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নয়, বরং ভোটারদের জন্য এক ধরনের শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবেশও তৈরি হবে।
নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যেই সমস্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে যে তারা কেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন এবং ভোটারদের ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া, কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করবেন।
এই উদ্যোগ ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধ ভোটাররা ধূমপানের ধোঁয়া থেকে দূরে নিরাপদভাবে ভোট দিতে পারবেন। এছাড়া, ধূমপানমুক্ত কেন্দ্র নির্বাচনী আচরণ ও শৃঙ্খলার জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত সতর্কীকরণ চিহ্ন, কেন্দ্রীয় কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত থাকবেন। সকল ভোটারকে সচেতনভাবে ধূমপানমুক্ত কেন্দ্রের নিয়ম মেনে চলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। কমিশন বলেছে, ধূমপানমুক্ত নীতি অমান্য করা হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইসির এই পদক্ষেপ ভোটপ্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং স্বাস্থ্যসম্মত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের দিন ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।ৃ