
X
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশ গঠনের নির্বাচন বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই নির্বাচন সেই নির্বাচন, যেই নির্বাচনের জন্য বিগত ১৬ বছর ধরে বাংলাদেশের মানুষ অপেক্ষা করেছে। এই নির্বাচনে মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, ভোটের অধিকারের নির্বাচন।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি কলাবাগান মাঠে ঢাকা-১০ আসনের নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১০ আসনের বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবি।
তারেক রহমান বলেন, বিগত ১৬ বছর নির্বাচনের নামে আমরা তামাশা দেখেছি, আপনারা কেউ সেই নির্বাচনগুলোতে ভোট দিতে পেরেছেন? বাংলাদেশে কেউ ভোট দিতে সক্ষম হয়নি। আজ সেই নির্বাচনের সময় এসেছে, যে নির্বাচনে বাংলাদেশের মানুষ ভোট দিতে পারবে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ তার রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবে। কিন্তু শুধু রাজনৈতিক অধিকার না, এই নির্বাচন হতে হবে দেশ গঠনের নির্বাচন। এই নির্বাচন হতে হবে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের নির্বাচন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যদি আমরা অন্যের বিরুদ্ধে শুধু বলে যাই তাতে কী জনগণ বা দেশের কোনো লাভ হবে? জনগণের লাভ হবে না। জনগণ বা দেশের কি লাভ হবে? যখন জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কোনো পরিকল্পনা থাকবে, কর্মসূচি থাকবে, একটি রাজনীতির দলের এবং সে যখন সেই কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরবে এবং জনগণ সেটি বিবেচনা করে তাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেবে তারপরে যখন জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। তখনই জনগণের লাভ হবে। তাইতো নাকি?
তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক দল আছে তার মধ্যে আপনারা চিন্তা করে দেখুন, বাংলাদেশের মধ্যে একমাত্র এই মুহূর্তে বিএনপি বাংলাদেশের একমাত্র দল, তারাই কিন্তু বাংলাদেশের নারীদের কীভাবে সফল করে গড়ে তুলতে চায়, কীভাবে তাদেরকে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চায়। সেই কর্মসূচি এবং পরিকল্পনা আছে শুধুমাত্র বিএনপির কাছেই আছে। বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল যাদের পরিকল্পনা আছে এই দেশের তরুণদেরকে এই দেশের যুবকদেরকে যারা বিশেষ করে বেকার আছে বা কর্মসংস্থান অভাব আছে তাদেরকে কীভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষে পরিণত করে তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিতে পারবে।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে বহু মেগা প্রজেক্ট হয়েছে এবং মেগা প্রজেক্ট মানেই মেগা দুর্নীতি হয়েছে। কিন্তু মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন হয়নি। আমাদের গ্রামগঞ্জসহ সব জায়গায় হাসপাতালগুলোতে গেলে ওষুধ পাওয়া যায় না। ডাক্তার পাওয়া যায় না। স্কুল কলেজগুলো ভেঙে পড়েছে। রাস্তাঘাট ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। এরকম আরো অনেক সমস্যা আছে। আসুন আমাদেরকে এখন এই পরিবর্তন করতে হবে। পৃথিবীর বহু দেশ ছিল। যেই দেশগুলোর অবস্থা বাংলাদেশ থেকে খারাপ ছিল। কিন্তু তারা পরিশ্রম করেছে। পরিশ্রম করার মাধ্যমে তারা তাদের দেশের অবস্থা মানুষের ভাগ্যের অবস্থান পরিবর্তন করেছে। তারা যদি পারে আমরা কেন পারবো না। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশও পারবে, বাংলাদেশের মানুষও পারবে, দেশকে পুনর্গঠন করতে।