প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৯ পিএম (ভিজিট : ৩৯)

X
সংগৃহীত ছবি
দেশে গ্যাস ও তরল জ্বালানিতে চলছে নানামুখী সংকট। বিশেষ করে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ব্যবসায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে বেসরকারিতে তরল জ্বালানির রিফাইনারি দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও সরকারের জ্বালানি বিভাগ।
তবে এর আগে সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা বলেছিলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে বেসরকারিতে রিফাইনারি রয়েছে। বাংলাদেশে বেসরকারিতে রিফাইনারি দিলে কোনো একক প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে না। দিলে সবই হবে উন্মুক্ত।’
গত ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে বিপিসির এক অনুষ্ঠানে প্রতিবেদকের করা প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান। তবে ছয় মাস না যেতেই উপদেষ্টা তার দেওয়া সেই বক্তব্য থেকে সরে এসেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অনেকটা তড়িঘড়ি করেই নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারিতে রিফাইনারিসহ জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসি।
এদিকে ৯ ফেব্রুয়ারি বিপিসি ১০১৭তম বোর্ড সভায় এজেন্ডায় বিষয়টি থাকলেও তড়িঘড়ি করে একদিন আগে ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জুম প্ল্যাটফর্মে জরুরি মিটিংয়ে বসেছে বিপিসি। এতেই তৈরি হয়েছে সন্দেহ। জানা যায়, দেশের একটি বড় শিল্পগ্রুপকে বেসরকারিতে জ্বালানি তেল পরিশোধন আমদানি ও বিপণনের সুযোগ করে দিতে ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বেসরকারি জ্বালানি নীতিমালা-২০২৩ করেছিল। এতে দেশের বিশিষ্টজনের দ্বিমত থাকলেও শেষমেষ ওই শিল্পগ্রুপকে বেসরকারিতে সুযোগ দিতে পারেনি। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পরপরই পরের ২৫ সেপ্টেম্বর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক প্রক্রিয়াকরণ, মজুত ও বিপণনের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে আবেদন করে চট্টগ্রামভিত্তিক টিকে গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল লিমিটেড (এসপিএল), বর্তমানে এসপি পিএলসি।
মীরজাফর ব্রিটিশদের হাতে দেশ তুলে দিয়েছিল। এখন এরা বেসরকারি অসাধু ব্যবসায়ীদের হাতে দেশ তুলে দিচ্ছে। আগে আওয়ামী লীগ সরকার ইআরএল-২ এস আলমের হাতে তুলে দিয়েছিল। এখন একই কাজ করা হচ্ছে, তবে লোক আলাদা। এটাতে আমার প্রতিবাদের ভাষা নেই।- জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এম শামসুল আলম
আবেদনে প্রায় সাড়ে ১৫ লাখ টন পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করলেও বিনিয়োগের আর্থিক কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ওই আবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরের ৩০ সেপ্টেম্বর জ্বালানি বিভাগ বিষয়টিতে মতামত চেয়ে বিপিসিকে চিঠি দেয়। এ নিয়ে বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বণ্টন ও বিপণন) মো. জাহিদ হোসাইনকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করে বিপিসি। ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল প্রতিবেদন জমা দেয় ওই কমিটি। বিপিসির মতামত প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিবেদনটিও ছিল দায়সারা। প্রতিবেদনটিতে প্রস্তাবিত প্রকল্পে আর্থিক বিনিয়োগের কোনো তথ্য দেওয়া ছিল না।