
X
ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ
গাজীপুর মহানগরের কলমেশ্বর এলাকায় ইউনিক ডিজাইন এবং ইউনিক ওয়াশিং এন্ড ডায়িং কারখানার শ্রমিকরা সোমবার দুপুরে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেছে।
এতে মহাসড়কের উভয়দিকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন পরিবহনের যাত্রীরা।
পরে বিকেলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। গ্রেনেডের স্পৃন্টারের আঘাতে কয়েক নারী শ্রমিক আহত হয়।
ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের প্রভাষক মোঃ হারুন অর রশিদ জানান, আসন্ন নির্বাচনে তার ডিউটি পড়েছে টঙ্গীর পাগার এলাকায় একটি মাদ্রাসা কেন্দ্রে। তিনি তার সহকর্মীকে নিয়ে গাজীপুর সদর উপজেলার মাস্টার বাড়ি এলাকা থেকে বাসে উঠে টঙ্গীর ওই কেন্দ্র পরিদর্শনের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে মালেকের বাড়ি এলাকায় গিয়ে তার বাসটিও জ্যামে পড়ে। দীর্ঘ সময় বসে থেকে পরে ভেতরের বিকল্প পথে ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা নিয়ে রওনা হন তারা। বিকেল পাঁচটাও তারা গন্তব্যে পৌঁছতে পারেনি।
কারখানার শ্রমিক মুক্তা জানান, প্রতি মাসে কর্তৃপক্ষ বেতন দিতে বিলম্ব করে। নির্বাচন উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকে গার্মেন্টস চার দিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে। ছুটির আগে শ্রমিকরা জানুয়ারি মাসের বেতন দাবি করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ দিতে রাজি না হওয়ায় শ্রমিকরা দুপুর ১টা থেকে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কারখানার পার্শ্ববর্তী ঢাকা- ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবস্থান নেয়।
গার্মেন্ট সেকশনের কর্মচারী রাইসুল ইসলাম ডানা জানান, নির্বাচনের বন্ধে শ্রমিকরা বাড়ি যাবে। মাস শেষে খালি হাতে কিভাবে যাবে, তাই তারা বেতন দাবি করেছে।
অপর শ্রমিক হাসি বেগম বলেন, পুলিশ আমাদের সাথে অমানবিক আচরণ করেছে তারা গ্রেনেড ছুঁড়েছে, গুলি করেছে। এগুলিতে আমাদের সুয়িং সেকশনের অপারেটর তামান্না, রিনা মোরশেদাসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কারখানার মেডিকেল ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।
কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান, ইদানিং কারখানার উৎপাদন কমে গেছে। তারপরও শ্রমিকদের বেতনের টাকা ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দুই হাজারের অধিক শ্রমিকদের জন্য প্রায় ৭ কোটি টাকা দরকার। তাদের কাছে বর্তমানে ৭০ লক্ষ টাকা আছে। এ টাকা কয়জনকে দেয়া যাবে। কর্তৃপক্ষ আগামী রোজার আগে বেতন ও ঈদের বোনাসসহ টাকা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের চারদিনের ছুটির আগে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া কোন ভাবেই সম্ভব নয়।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের ইন্সপেক্টর আজাদ রহমান জানান, দুপুর সোয়া একটার দিকে শ্রমিকরা জানুয়ারি মাসের বেতনের দাবিতে রাস্তায় নামে। পরে কয়েক দফা বুঝিয়ে তাদের কারখানার ভেতরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে আবার তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করে রাখে। এতে ঢাকা - ময়মনসিংহ মহাসড়কে উভয়দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে তাদের কয়েক রাউন্ড সাউন্ড গ্রেনেড ছুঁড়া হয়। পরে বিকেল চারটার দিকে মহাসড়ক থেকে বিক্ষোভ কারীরা সরে গেলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়।