রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো যেন এই পৃথিবীর কেউ নন। এই ক্লাবের হয়ে তিনি যা করেছেন, তেমন কিছুর পুনরাবৃত্তি করা অসম্ভরের কাছাকাছি। আলভারো আরবেলোয়া অকপটেই তা বলছেন। তবে রেয়াল মাদ্রিদের কোচ এটাও বলে রাখছেন, কিলিয়ান এমবাপেও ছুটছেন সেই একই পথ ধরে।
এমবাপেকে নিয়ে মুগ্ধতার কথা আগেও বলেছেন আরবেলোয়া। নতুন করে আবার বলছেন ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর। লা লিগার ম্যাচটিতে ভালেন্সিয়ার মাঠ থেকে ২-০ গোলের জয় নিয়ে ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের শেষ দিকে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপে।
চলতি লিগে তার ২৩তম গোল এটি। গোলের তালিকায় নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে তিনি এখন ৮ গোলে। তার এই অপ্রতিরোধ্য ছুটে চলা দেখেই অনেকের মনে পড়ছে রোনালদোকে। তার কীর্তি তো কাছ থেকেই দেখেছেন আরবেলোয়া।
রিয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা আরবেলোয়া এই ক্লাবের হয়েই খেলেছেন ২০০৫ সাল পর্যন্ত। পরে দেপোর্তিভো লা করুনিয়া ও লিভারপুল হয়ে আবার মাদ্রিদে ফেরেন ২০০৯ সালে। রেয়ালের জন্য এটি মাইলফলক এক মৌসুম। কারণ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড থেকে রোনালদো এই ক্লাবে পা রাখেন ওই বছরই।
এরপর বছরের পর বছর আরবেলোয়া কাছ থেকেই দেখেছেন, কীভাবে অমরত্বের ঠিকানায় পৌঁছে গেছেন পর্তুগিজ এই তারকা। রিয়ালের হয়ে রোনালদোর রেকর্ড, অর্জন, প্রাপ্তি অসংখ্য। সবচেয়ে বড় রেকর্ড সম্ভবত ক্লাবের ইতিহাসের সেরা গোলস্কোরারের কীর্তিটিই। অবিশ্বাস্যভাবে ৪৩৮ ম্যাচে ৪৫০ গোল তিনি করেছেন।
এমবাপে কি পারবেন সেই রেকর্ড নিজের করে নিতে? আরবেলোয়ার উত্তরে মিশে থাকল রোনালদোর শ্রেষ্ঠত্ব আর এমবাপের সম্ভাবনা। তিনি বলেন,‘ আমরা খুবই সৌভাগ্যবান (এমবাপেকে পেয়ে)। এই মুহূর্তে সে বিশ্বের সেরা ফুটবলার। দিনের পর দিন, ম্যাচের পর ম্যাচ সেটা প্রমাণ করে চলছে সে। আগেও বলেছি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এখানে যা অর্জন করেছে, তা বহির্জাগতিক, বলা যায় দুনিয়ার বাইরের কিছু এবং তেমন কিছু করা প্রায় অসম্ভব। কেউ হয়তো কাছাকাছিও যেতে পারবে না।’
কিলিয়ানের এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে, কারণ ক্রিস্তিয়ানো অনেক বছর খেলে এটা অর্জন করেছে। তবে ক্রিস্তিয়ানোর পথে ছোটার সব উপকরণই কিলিয়ানের মধ্যে আছে। কে জানে, হয়তো একদিন তাকে পেরিয়েও যেতে পারে! কাজটা ভীষণ কঠিন। তবে যদি কেউ ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে যেতে পারে, সেটা কিলিয়ান এমবাপেই।’ আরও যোগ করেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ।
ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে রেয়াল প্রথম গোলের দেখা পায় ৬৫তম মিনিটে। হতাশাময় অনেকটা সময় কাটানোর পর দলকে প্রায় একক প্রচেষ্টার দারুণ গোলে দলকে এগিয়ে নেন ডিফেন্ডার আলভারো কাররেরাস। পরে ৯১তম মিনিটে গোল করেন এমবাপে। দুজনের প্রশংসাই করলেন কোচ।
আর সেখানে আবারও তার কণ্ঠে ফুটে উঠল রোনালদোর সঙ্গে এমবাপের তুলনা। রিয়ালের নতুন কোচ বলেন,‘ আলভারোর গোলে ফুটে উঠেছে, সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক প্রতিভা তার আছে। ভালেন্সিয়ার বিপক্ষে প্রথম লেগেও দুর্দান্ত এক গোল করেছিল সে। কিলিয়ানের জন্য কোনো বিশেষণ আর বাকি নেই। আমরা ভেবেছিলাম, ক্রিস্তিয়ানোর মতো আর কাউকে দেখতে পারব না, কিন্তু এই একজন একই পথেই ছুটছে।’
ম্যাচ জিতলেও রিয়ালের পারফরম্যান্স খুব উজ্জ্বল ছিল না। তবে সেটাকে পাত্তা দিচ্ছেন না আরবেলোয়া। ভালেন্সিয়ার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরতে পারাই তার কাছে বড় ব্যাপার। তিনি বলেন,‘ জানতাম আমরা কোথায় এসে খেলছি। এখানে সম্ভবত গত ১১ বছরে স্রেফ তিনটি জয় আমাদের, যদি ভুল না করি। খেলোয়ড়ি জীবনে অনেকবারই মেস্তায়ায় আসার সৌভাগ্য হয়েছে আমার এবং জানি এখানে কত চ্যালেঞ্জ আছে। মাদ্রিদ এখানে যখনই আসে, ওদের সমর্থক ও ফুটবলাররা বাড়তি কিছু দিতে মুখিয়ে থাকে। এছাড়াও আজকে পাঁচজনের ডিফেন্স লাইন ব্যবহার করেছে ওরা। এই ম্যাচে তাই ধৈর্য ধরেই এগোতে হতো আমাদের। এই জয় এসেছে দৃঢ়তা ও প্রতিজ্ঞা দিয়ে, গুরুত্ব দিয়ে খেলেছি আমরা। জয় আমাদেরই প্রাপ্য ছিল।’
এই জয়ে বার্সেলোনার ওপর চাপটা ধরে রেখেছে রিয়াল। ২৩ ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট কাতালানদের, এক পয়েন্ট পেছনে এমবাপেরা।