
X
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির (এমপিসি) ১১তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে গত ২২ জানুয়ারি ২০২৬। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভায় এমপিসির সদস্যরা দেশীয় ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুদ্রাস্ফীতি, প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, আর্থিক বাজারের গতিশীলতা এবং বৈদেশিক খাতের সর্বশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেন। একই সঙ্গে দশম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়।
এমপিসি সভায় উল্লেখ করা হয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, রমজান মাস এবং নবম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা মুদ্রাস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এসব কারণে ভোক্তা চাহিদা ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মত দেন সদস্যরা।
কমিটি জানায়, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ব্যাংকের সংকোচনশীল মুদ্রানীতির ফলে বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার শুরু করেছে এবং প্রকৃত নীতি সুদহার ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে সঞ্চয় উৎসাহিত হয়েছে এবং নীতিগত বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার হয়েছে। সামগ্রিকভাবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমতে শুরু করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে এমপিসি জোর দিয়ে বলেছে, শুধুমাত্র নীতিগত হার সমন্বয়ের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, সময়মতো খাদ্য আমদানি, বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বাণিজ্য নীতির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এসব ক্ষেত্রে দুর্বলতার কারণে বৈশ্বিক পণ্যমূল্য কমলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম প্রত্যাশিত হারে কমেনি বলে উল্লেখ করা হয়।
সভায় আরও বলা হয়, বর্তমান স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হারের কারণে কিছু ব্যাংক আন্তঃব্যাংক বাজার বা বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে উদ্বৃত্ত তারল্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখতে আগ্রহী হচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরুৎসাহিত করতে প্রয়োজনে এসডিএফ হার কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মত দেয় এমপিসি।
এছাড়া সরকার রাজস্ব আদায় বাড়ানো ছাড়া নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করলে ঘাটতি অর্থায়নের চাপ বাড়তে পারে, যা সুদের হার ও মুদ্রাবাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে কমিটি। এ ক্ষেত্রে যথাযথ রাজস্ব ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে এমপিসি। পাশাপাশি অনাদায়ী ঋণের উচ্চমাত্রা ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে, এ খাতে সুশাসন ও সংস্কার কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মুদ্রানীতি কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে নীতিগত সুদহার ১০ দশমিক ০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ঋণ সুবিধার হারও বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।