চট্টগ্রাম বন্দর অচলে রপ্তানিতে ৩ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ-বানিজ্য

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা নিয়ে শ্রমিকদের সাত দিনের কর্মবিরতিতে দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

2026-02-10T17:47:12+00:00
2026-02-10T17:58:41+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
চট্টগ্রাম বন্দর অচলে রপ্তানিতে ৩ হাজার কোটি টাকা ক্ষতির আশঙ্কা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম  আপডেট: ১০.০২.২০২৬ ৫:৫৮ পিএম  (ভিজিট : ৬৮)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি



চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) ইজারা নিয়ে শ্রমিকদের সাত দিনের কর্মবিরতিতে দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এতে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। সাত দিনের অচলাবস্থায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতিসহ আট হাজার ৭২ কোটি টাকার রপ্তানি পণ্য বন্দরে আটকা পড়ে। একই সঙ্গে পোশাক রপ্তানিতেই প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। তবে চূড়ান্ত ক্ষতির হিসাব কষছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।


তথ্যমতে, এনসিটি চুক্তি বাতিল ও ১৫ কর্মচারীর বদলি আদেশ প্রত্যাহারসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ৩১ জানুয়ারি থেকে তিন দিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করে। ৫ ফেব্রুয়ারি নৌ-উপদেষ্টার বন্দর পরিদর্শনের পর দুই দিনের জন্য কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। তবে সাময়িক বিরতির পরও বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে উত্তেজনা আবার বাড়ে। ফলে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে শ্রমিকরা পুনরায় অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রমজানের পণ্য খালাস করার কথা বলে পরদিন সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত করেন আন্দোলনরত কর্মচারীরা। এর মধ্যে তাদের পাঁচটি সমস্যা সমাধান না হলে ১৬ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।


সোমবার থেকে বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হলেও এই অস্থিরতা দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। দেশের রপ্তানি আয়ে তা ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রপ্তানিকারকরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ  বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক ধর্মঘটে দেশের অর্থনীতি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ছয় দিনের অচলাবস্থায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ ক্ষতিসহ ৬৬ কোটি ডলারের (প্রতি ডলার ১২২.৩ টাকা হিসেবে আট হাজার ৭২ কোটি টাকা) রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ে। প্রতিদিন প্রায় ১৯০ কোটি টাকা রাজস্ব হারানো ছাড়াও জাহাজ ও কনটেইনার জটে আমদানিকারকদের বিপুল ডেমারেজ গুনতে হচ্ছে। এই স্থবিরতা সরবরাহ চেইন ব্যাহত করে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের বাণিজ্যিক ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।’

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (বিকেএমইএ) বলছে, তৈরি পোশাক খাতে মাসে ৩০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। সে হিসাবে দিনে রপ্তানি হয় ১০ কোটি ডলারের পণ্য। সংগঠনটির সভাপতির ধারণা, দিনে যে পরিমাণ পোশাক রপ্তানি হয় ক্ষতি হয়েছে তার অর্ধেক। সে হিসাবে দিনে ক্ষতি অন্তত পাঁচ কোটি ডলার। পাঁচ দিনে এই ক্ষতি দাঁড়ায় ২৫ কোটি ডলার, টাকার অঙ্কে যা তিন হাজার কোটি টাকার বেশি।


বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম  বলেন, ‘আমাদের বিশাল পরিমাণে ক্ষতি হয়েছে। আমরা যদি প্রতি মাসে আমাদের রপ্তানি ধরি অন্তত তিন বিলিয়ন ডলার, তাহলে দিনে যে পরিমাণ রপ্তানি হয় তার ফিফটি পারসেন্ট ক্ষতি হয়েছে।’


বিমানে পণ্য রপ্তানি করতে হয়েছে কিনা বা করে থাকলে ক্ষতি কেমন এমন এক প্রশ্নের উত্তরে মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘এয়ারে পাঠানো মানে হচ্ছে—আমাদের যা এক্সপোর্ট ভ্যালু, ওই ভ্যালুর ৬০ শতাংশ এয়ার ফ্রেইট বাবদ চলে যায়। যে পণ্যগুলো পোর্ট দিয়ে রপ্তানি করা যায়নি, সেগুলো এয়ারে এনে আমাদের পাঠাতে হয়েছে। পাঁচ দিনে যে পণ্য রপ্তানি হতো তার অন্তত ২৫ শতাংশ এয়ারে পাঠাতে হয়েছে। এতে আমাদের ৬০ শতাংশ বেশি খরচ হয়েছে।’






Loading...
Loading...


অর্থ-বানিজ্য এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy