
X
সংগৃহীত ছবি
চলমান টি২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও হার দেখেছিল নেদারল্যান্ডস। আর সেই দুঃখ ভুলে টি২০ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে দাপুটে জয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। রোববার নামিবিয়াকে ১২ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ডাচরা। ব্যাট ও বল হাতে প্রথম জয় এনে দিতে মূল অবদান ছিল নেদারল্যান্ডসের অলরাউন্ডার বাস ডি লেডের।
ভারতের দিল্লিতে ১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় অলরাউন্ডার বাস ডি লিড অপরাজিত ৭২ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। তার ৪৮ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ৪টি ছয়। এর আগে বল হাতে নামিবিয়ার দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারকে আউট করেন তিনি। জয়ের পথে তাকে সঙ্গ দেন মাইকেল লেভিট (২৮), কলিন অ্যাকারম্যান (৩২) ও স্কট অ্যাডওয়ার্ডস (১৮*)। টি২০ বিশ্বকাপে এটি নেদারল্যান্ডসের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়।
ভারতের দিল্লিতে মঙ্গলবার টি২০ বিশ্বকাপের ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ডাচদের জয় ৭ উইকেটে। নামিবিয়ার ১৫৬ রান ১২ বল বাকি থাকতে পেরিয়ে যায় পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের দুয়ার থেকে ফিরে আসা দলটি। দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরা ডে লেডে চারটি ছক্কা ও পাঁচটি চারে খেলেন ৪৮ বলে ৭২ রানের ইনিংস। আন্তর্জাতিক টি২০ এটি তার পঞ্চম ফিফটি, আর এই সংস্করণের বিশ্বকাপে পঞ্চাশ করলেন প্রথমবার।
ম্যাচে প্রথম ভাগে পেস বোলিংয়ে ৩ ওভারে স্রেফ ২০ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন ডে লেডে। এমন পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ সেরা তিনি ছাড়া আর কে! আরুন জেটলি স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা নামিবিয়া তৃতীয় ওভারেই হারায় উইকেট। আরিয়ান দত্তের অফ স্পিন ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে খেলার চেষ্টায় স্টাম্পড হন লরেন স্টিনক্যাম্প।
ইয়ান ফ্রাইলিঙ্ক ও লফটি-ইটনের ব্যাটে শুরুর সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠে নামিবিয়া। দারুণ খেলতে থাকা দুইজনকেই মনে হচ্ছিল ফিফটি করবেন। কিন্তু সেই ঠিকানায় পৌঁছাতে পারেননি কেউ। একটি ছক্কা ও তিনটি চারে ২৬ বলে ৩০ রান করা ফ্রাইলিঙ্ককে কট বিহাইন্ড করে ৫০ রানের যুগলবন্দি ভাঙেন লগান ফন বিক। নতুন ব্যাটসম্যান গেরহার্ড এরাসমাস টানা তিন বলে একটি ছক্কা ও দুটি চার মারেন টিম ফন ডার গুগটেনকে।
ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় বলেই দলকে সাফল্য এনে দেন ডে লেডে। অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে মিড উইকেটে ধরা পড়েন এরাসমাস। এক ওভার পর থিতু লফটি-ইটনকে বিদায় করেন ফন বিক। দুই ছক্কা ও একটি চারে ৪২ রান করেন লফটি-ইটন। ষোড়শ ওভারে রুলফ ফন ডার মেরওয়াকে টানা দুই ছক্কায় ওড়ান জেজে স্মিট। নিজের দ্বিতীয় ওভারে তাকে ফিরিয়ে দেন ডে লেডে। তার তৃতীয় ওভারে আরেকটি উইকেট হারায় নামিবিয়া, রান আউট হন রুবেন ট্রাম্পেলমান। আর শেষ দিকে দ্রুত রান তুলতে পারেনি নামিবিয়া। শেষ ২৪ বলে তারা করতে পারে কেবল ৩১ রান।
রান তাড়ায় ডাচরাও তৃতীয় ওভারে হারায় উইকেট, বেনার্ড শুলজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মাক্স ও’ডাউন। ভালো শুরু পাওয়া মাইকেল লেভিটও ইনিংস বড় করতে পারেননি। তিনটি ছক্কা ও একটি চারে ১৫ বলে ২৮ রান করে ফেরেন এই ওপেনার। ম্যাক্স হেইঙ্গোকে ছক্কায় ওড়ানো ডে লেডে পরে চার মারেন শুলজকে। আরেক প্রান্তে তাকে কিছুক্ষণ সঙ্গে দেন কলিন আকারম্যান। হেইঙ্গোকে ছক্কা হাঁকান তিনিও।
পরপর দুই ওভারে এরাসমাস ও লফটি-ইটনকে বাউন্ডারির বাইরে উড়িয়ে ফেলেন ডে লেডে। লফটি-ইটনের ওই ওভারে এরাসমাসের হাতে ধরা পড়েন ভালো খেলতে থাকা আকারম্যান (এক ছক্কায় ৩২)। তাতে ভাঙে ৭০ রানের জুটি। স্মিটকে চার মেরে ৩৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন ডে লেডে। পরের বলেই আরেকটি বাউন্ডারি হাঁকান তিনি। ১৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে লফটি-ইটনকে ছক্কায় ওড়ান এরাসমাস। ওভারের শেষ দুই বলে ছক্কা-চারে ম্যাচের ইতি টেনে দেন ডে লেডে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নামিবিয়া: ২০ ওভারে ১৫৬/৮ (স্টিনক্যাম্প ৬, ফ্রাইলিঙ্ক ৩০, লফটি-ইটন ৪২, এরাসমাস ১৮, স্মিট ২২, গ্রিন ৯, ট্রাম্পেলমান ৯, লিচার ৬*, মাইবার্গ ৪; আরিয়ান ১/১৩, ফন বিক ২/১৩, ক্লাসেন ১/২৫, আকারম্যান ০/৩৩, লায়ন-ক্যাশে ০/৬, ফন ডার গুগটেন ২/২১, ডে লেডে ৩-০-২০-২, ফন ডার মেরওয়া ২-০-২২-০)
নেদারল্যান্ডস: ১৮ ওভারে ১৫৯/৩ (লেভিত ২৮, ও’ডাউড ৭, ডে লেডে ৭২*, আকারম্যান ৩২, এডওয়ার্ডস ১৮*; শুলজ ৪-০-২৭-১, ট্রাম্পেলমান ৪-০-৩০-১, স্মিট ৩-০-২৫-০, হেইঙ্গো ২-০-২২-০, মাইবার্গ ২-০-১২-০, এরাসমাস ১-০-১১-০, লফটি-ইটন ২-০-৩১-১)
ফল: নেদারল্যান্ডস ৭ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: বাস ডেস্ক লেডে।