প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম (ভিজিট : ৩৮)

X
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংবাদিকদের হয়রানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। তারা জানিয়েছে, চলতি মাসের (ফেব্রুয়ারি) প্রথম ১০ দিনে রাজনৈতিক সহিংসতার ৫৮টি ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন নিহত ও ৪৮৯ জন আহত হয়েছেন।
দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আসক।
এতে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সহিংসতা এবং এতে হতাহত বৃদ্ধির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা অপরিবর্তিত আছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আসকের ডকুমেন্টেশন ইউনিটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারির শেষ ১০ দিনে (২১-৩১ জানুয়ারি) ৪৯টি সংঘর্ষে ৪১৪ জন আহত এবং ৪ জন নিহত হন। আর চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনে (১-১০ ফেব্রুয়ারি) ৫৮টি সহিংসতার ঘটনায় ৪৮৯ জন আহত এবং ২ জন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়াও জানুয়ারির প্রতি ১০ দিন অন্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জানুয়ারির প্রথম ১০ (দশ) দিন রাজনৈতিক সহিংসতার মোট ৮টি ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাগুলোয় মোট ২৬ জন আহত এবং ৫ জন নিহত হন। পরবর্তী ১০ দিন অর্থাৎ ১১ থেকে ২০ জানুয়ারি মধ্যে মোট সহিংসতার ঘটনা ছিল ১৮টি, এতে আহত হন ১৭৬ জন এবং নিহত হন ২ জন। জানুয়ারির শেষ ১০ দিন অর্থাৎ ২১ থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে মোট সহিংসতার ৪৯টি ঘটনা ঘটে। এতে আহত হন ৪১৪ জন এবং নিহত হন ৪ জন।
এতে আরো বলা হয়, গত বছরের ডিসেম্বরে ১১ সাংবাদিক তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। জানুয়ারিতে এ সংখ্যা ছিল ১৬ জন। আর চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম ১০ দিনে মোট ৪৭ সাংবাদিক আক্রান্ত হন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ টাইমস পত্রিকার ২১ সাংবাদিককে তাদের কর্মস্থল থেকে আটক করে সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ২ ঘণ্টা পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
আসক জানিয়েছে, সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, গত ডিসেম্বরের তুলনায় জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা বেশি ঘটেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি প্রতি ১০ দিন অন্তরের তথ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। সেইসঙ্গে হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। জানুয়ারির রাজনৈতিক সহিংসতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা ফেব্রুয়ারিতেও অপরিবর্তিত আছে। অর্থাৎ নির্বাচন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতির মাঠ সহিংস হয়ে উঠছে। আর এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিক আক্রান্তের হার বৃদ্ধির প্রবণতাও অপরিবর্তিত আছে।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের এমন ধারাবাহিক বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মানবাধিকার সংস্থাটি। সেইসঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আইনের শাসন বজায় রাখা এবং প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে আসক। পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ যেন অবাধ ও নিরাপদভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছে আসক।