
X
সংগৃহীত ছবি
রমজান মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেইত আল খায়ের সোসাইটি আটটি আলাদা কর্মসূচি নিয়ে তাদের বার্ষিক রমজান মানবিক কার্যক্রম চালু করেছে। এবার রমজানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ৭০ মিলিয়ন দিরহাম বাজেটের মানবিক কর্মসূচি চালু করেছে দুবাইভিত্তিক দাতব্য সংস্থা বেইত আল খায়ের সোসাইটি। এই উদ্যোগের আওতায় দেশজুড়ে প্রায় ১৬ লাখ রোজাদারের জন্য বিনামূল্যে ইফতার বিতরণ করা হবে।
সংস্থাটির লক্ষ্য স্বল্প আয়ের পরিবার, জরুরি মানবিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষ এবং সামাজিকভাবে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো। এ উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৬ সালকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ‘পরিবারের বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছে।
সংস্থার মিডিয়া ও জনসংযোগ পরামর্শক খলিফা আল ফালাসির ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের রমজান কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আর্থিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে থাকা পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং তাদের পারিবারিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনমতো সহায়তা পৌঁছে দিয়ে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করার ওপর।
জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য রমজান বাজেটের সবচেয়ে বড় অংশ ২৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন দিরহাম বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করে উচ্ছেদ ঠেকানো, বিদ্যুৎ ও পানির বিল পরিশোধ, চিকিৎসা ব্যয় ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা এবং উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারানো বা হঠাৎ আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর সহায়তা।
সংস্থাটির মতে, এসব ক্ষেত্রে দ্রুত সহায়তা না পেলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার নিতে পারে। রমজানের মতো পবিত্র সময়ে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা মানুষের জীবনে বাড়তি তাৎপর্য বহন করে।
আমিরাতজুড়ে ৯৭টি স্থায়ী বিতরণ কেন্দ্র ও ১৮টি রমজান তাবুতে বিনামূল্যে ইফতার বিতরণের জন্য ইফতার সায়েম প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৮ মিলিয়ন দিরহাম। এই কর্মসূচির আওতায় পুরো রমজান মাসে প্রায় ১৬ লাখ ইফতার বিতরণ করা হবে।
মাঠপর্যায়ের গবেষণার মাধ্যমে শ্রমিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং জনঘনত্ব বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রস্তুত খাবার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক ও মাঠপর্যায়ের অংশীদারদের সহায়তায় প্রতিদিন বিতরণ করা হবে।
ইফতার ছাড়াও রমজান খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ মিলিয়ন দিরহাম। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের আমিরাতি পরিবারগুলোর জন্য মাসিক নগদ ও পণ্য সহায়তায় রাখা হয়েছে ৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন দিরহাম।
ঋণগ্রস্তদের সহায়তায় ঘারিমিন কর্মসূচিতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬ মিলিয়ন দিরহাম। এ ছাড়া যাকাতুল ফিতরের জন্য ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন এবং ঈদিয়া বিতরণে ১ দশমিক ২ মিলিয়ন দিরহাম রাখা হয়েছে। সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মসূচির লক্ষ্য শুধু তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানো নয়, বরং মানুষের মর্যাদা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।