
X
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সংশোধনকল্পে প্রণীত ৩০ নম্বর অধ্যাদেশকে (২০২৬) বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে তথ্য অধিকার ফোরাম।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের ১৪ জন বিশিষ্ট নাগরিক এই ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ নং-৩০, ২০২৬ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। তথ্য অধিকার ফোরাম এটিকে বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রহসন বলে মনে করছে। একইসঙ্গে ফোরামের ধারাবাহিক তাগিদ সত্ত্বেও দীর্ঘ সময়ে প্রধান তথ্য কমিশনার এবং কমিশনারগণের নিয়োগ করা হয়নি। এর ফলে জনগণের অর্থে পরিচালিত তথ্য কমিশনকে অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নে যে বাধা সৃষ্টি হয়েছে তা নিন্দনীয়। অন্তর্বর্তী সরকারের অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের এটিও একটি উদাহরণ।
তথ্য অধিকার ফোরাম তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর বিভিন্ন ধারার উপর ৩৭টি সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করে বিগত ৬ মার্চ ২০২৫ একটি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করে এবং একই দিনে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সমীপে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে তথ্য অধিকার ফোরামের পক্ষ থেকে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের আলোকে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ পর্যালোচনা ও সংশোধনের বিষয়গুলোতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়ার প্রেক্ষিতে পুনরায় মতামত প্রদান করা হয়।
সবশেষে উপদেষ্টা পরিষদ কর্তৃক তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর সংশোধনকল্পে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদনের বিষয়টি অবগত হওয়ায় ফোরামের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর সংশোধনীকল্পে অতি জরুরি সংশোধনীসমূহ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় ফোরামের পক্ষ থেকে সরাসরি উপদেষ্টাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়। তথ্য অধিকার ফোরাম মনে করে তথ্য অধিকার আইনের অন্তঃস্থিত চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়নে ন্যূনতম পক্ষে নিম্নলিখিত সংশোধনীসমূহ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, যার প্রতিফলন এই অধ্যাদেশে পরিলক্ষিত হয়নি, যেমন-
তথ্যের সংজ্ঞায় নোট সিট অন্তর্ভুক্ত করা যা মাধ্যমে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নথি পরিচালনাকারী প্রত্যেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী কে, কি, ভূমিকা পালন করেছেন তা স্পষ্ট বুঝা যায়। কর্তৃপক্ষের আওতা বৃদ্ধি করে সরকারের পক্ষে অথবা সরকার বা সরকারি কোনও সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের সহিত চুক্তিবদ্ধ কোন বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন দ্বারা নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, সরকারী, স্বায়ত্তশাসিত, বা স্থানীয় সরকার সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত করা; প্রধান তথ্য কমিশনার ও তথ্য কমিশনারগণের পদমর্যাদা, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তাদের পদমর্যাদা, পারিশ্রমিক, ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি যথাক্রমে আপীল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের অনুরূপ নির্ধারিত করা এবং জরিমানায় আপীল কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
তথ্য অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক শাহীন আনামের স্বাক্ষরিত বিবৃতীতে সহমত প্রকাশ করেছেন, ড. বদিউল আলম মজুমদার, প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন); ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি); খুশী কবির, কোঅর্ডিনেটর, নিজেরা করি; রেজাউল করিম চৌধুরী, নির্বাহী পরিচালক, কোস্ট ট্রাস্ট; সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস্); এইচএম বজলুর রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিএনএনআরসি; জাকির হোসেন, প্রধান নির্বাহী, নাগরিক উদ্যোগ; ড. অনন্য রায়হান, চেয়ার পারসন, আইসোশ্যাল; ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক, ব্লাস্ট; রফিকুল ইসলাম খোকন, নির্বাহী পরিচালক, রূপান্তর; হাসিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক, মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই); রুহী নাজ, সদস্য, ডেপুটি ডাইরেক্টর, রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশ (রিইব) এবং হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, প্রজেক্ট ম্যানেজার, টোবাকো ট্যাক্স প্রজেক্ট, ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।