
X
গ্লোবাল টেলিভিশনের রিপোর্টার বুলবুল হোসাইন
বিজয় সরণি ট্রাফিক সিগন্যালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের নির্মম শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন গ্লোবাল টেলিভিশনের রিপোর্টার বুলবুল হোসাইন। এক নারীকে পুলিশি লাঞ্ছনার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করায় তাকে জোরপূর্বক পুলিশি বাসে তুলে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে নিজের ওপর বয়ে যাওয়া সেই নারকীয় অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী এই সাংবাদিক।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে বিজয় সরণি ট্রাফিক সিগন্যালে। পেশাগত কাজে যাওয়ার পথে সিগন্যালে অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় সাংবাদিক বুলবুল দেখতে পান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদস্যবাহী একটি বাসের সঙ্গে বাইকার ও পথচারীদের বাকবিতণ্ডা চলছে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা এক নারী ও তার সাথে থাকা এক জ্যেষ্ঠ নাগরিককে মারধর শুরু করেন।
ঘটনাটির ভিডিও ধারণ ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া মাত্রই পুলিশের তিন সদস্য পেছন থেকে এসে জোরপূর্বক সাংবাদিক বুলবুলকে টেনে-হিঁচড়ে তাদের বাসে তুলে নেয়। গলায় প্রেস আইডি কার্ড ঝোলানো থাকা সত্ত্বেও তারা ভিডিও কেটে ফেলার (ডিলিট) জন্য চাপ দিতে থাকে।
সাংবাদিক বুলবুল ভিডিও ডিলিট করতে অস্বীকৃতি জানালে পেছন থেকে লাঠি দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করা হয়। আঘাতের চোটে বাসের ফ্লোরে পড়ে গেলে প্রায় ২০-২৫ জন পুলিশ সদস্য বুট জুতো দিয়ে তাঁর বুকে, চোখে ও শরীরে বেধড়ক লাথি ও মারধর চালাতে থাকে। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট ধরে চলে এই পাশবিক নির্যাতন।
বাসের ভেতর এমন বর্বরোচিত হামলা চলতে দেখে বাইরে থাকা সাধারণ মানুষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এগিয়ে আসেন। সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিবাদে পুলিশ নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং একপর্যায়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বাসের জানালা দিয়ে রক্তাক্ত বুলবুলকে উদ্ধার করে বাইরে নিয়ে আসেন। বাসের ভেতর থেকে বের হওয়ার পর ভুক্তভোগী সাংবাদিক আবারও ক্যামেরা বাড়ালে সেখান থেকেও এক পুলিশ কনস্টেবল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আঘাতে তার মাথায় রক্ত জমে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও এক্স-রে শেষে চিকিৎসক তাঁকে ৩ দিনের সম্পূর্ণ ‘বেড রেস্টে’ থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
ঘটনার পর সুবিচারের আশায় ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক বুলবুল হোসেন।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি। তারা জানিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে দোষী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আগামী রোববার আবারও যেতে বলা হয়েছে।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এমন হামলার শিকার হওয়া গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। ইতিপূর্বেও সংবাদ প্রকাশের কারণে তাঁকে তুলে নেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নিরাপত্তা দাবি করেন।