নারী ‘সুইসাইড বোম্বার’ নিয়ে বেকায়দায় পাকিস্তান

অনলাইন ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নারী আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর শক্তি ও প্রভাব বাড়ছে

2026-02-11T13:30:24+00:00
2026-02-11T15:41:20+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
নারী ‘সুইসাইড বোম্বার’ নিয়ে বেকায়দায় পাকিস্তান
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩০ পিএম  আপডেট: ১১.০২.২০২৬ ৩:৪১ পিএম  (ভিজিট : ৭৪)
সংগৃহীত ছবি
X

সংগৃহীত ছবি

নারী আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী ও আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তানে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর শক্তি ও প্রভাব বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহীরা নিজেদের কার্যক্রম ও জনসমর্থন তুলে ধরতে নতুন এসব কৌশল অবলম্বন করেছে।

পাকিস্তানি বিদ্রোহী সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) সম্প্রতি ইয়াসমা বেলুচ ও তার স্বামী ওয়াসিমের একটি ছবি প্রকাশ করে। ছবিতে দেখা যায়, সামরিক পোশাক পরা অবস্থায় কাঁধে রাইফেল ঝুলিয়ে তারা ক্যামেরার দিকে হাসছেন। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল তাদের চূড়ান্ত মিশন (আত্মঘাতী অভিযান)। বিএলএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘তারা দাম্পত্য জীবনে একসঙ্গে ছিল, আবার শেষ প্রতিরোধেও একসঙ্গে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্স জানায়, ছবিগুলো ও সংশ্লিষ্ট জীবনী তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এগুলো বিদ্রোহীদের একটি সুপরিকল্পিত প্রচারণা, যার লক্ষ্য খনিজসমৃদ্ধ এই প্রদেশে নিজেদের আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো। পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হলেও দরিদ্র এই প্রদেশে বিদ্রোহী হামলা রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। এর কারণে সেখানে পরিকল্পিত বড় বিনিয়োগ বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ফেলেছে ঝুঁকির মুখে।

পাকিস্তানের উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেন, নারী সদস্যদের অংশগ্রহণ বিদ্রোহীদের নিয়োগ ও জনপ্রিয়তা বাড়াতে সহায়তা করছে। তিনি রয়টার্সকে বলেন, এতে তাদের জনপ্রিয়তা ও কাজের বিস্তৃতি বাড়ে এবং তাদের সম্প্রদায়ের কাছে বার্তা যায় যে এই লড়াই এখন ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়েছে।

বিদ্রোহীরা অনলাইনে সদস্য সংগ্রহ করায় সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বিএলএর কোনো মুখপাত্র রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেননি।

শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা হামজা শাফাত জানান, জানুয়ারিতে সংগঠিত বিএলএর সবচেয়ে বড় হামলার ঢেউয়ে অংশ নেয়া ছয় নারীর মধ্যে তিনজন ছিলেন আত্মঘাতী। ওই হামলায় ৫৮ জন নিহত হন এবং প্রায় পুরো প্রদেশ অচল হয়ে পড়ে। এর আগে ২০২২ সালে প্রথম নারী আত্মঘাতী হামলার পর মোট পাঁচজন নারী বিএলএ আত্মঘাতী বোমারুর তথ্য পাওয়া যায়। এছাড়া গত কয়েক মাসে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে আরও তিন নারী হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, নারী সদস্যের সংখ্যা এখনও কম। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি জাতিগত বেলুচ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্রোহী আন্দোলনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলেছে। সংঘাত পর্যবেক্ষণ সংস্থা এসিএলইডির দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষক পার্ল পান্ডিয়া বলেন, ‘এই বিদ্রোহ এখন আর শুধু পুরুষ-নিয়ন্ত্রিত উপজাতীয় ও সামন্ত নেতৃত্বে সীমাবদ্ধ নেই, এটি সমাজের বিস্তৃত অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।’

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর দাবি, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর সেখানে পড়ে থাকা বিপুল মার্কিন অস্ত্র বিদ্রোহীদের হাতে চলে যাওয়ায় বিএলএর সামরিক সক্ষমতা বেড়েছে। সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির গবেষক আবদুল বাসিত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বর্তমানে বিএলএ সবচেয়ে সংগঠিত ও প্রাণঘাতী বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

তিনি জানান, বিএলএ ড্রোন ব্যবহার করে সেনাদের অবস্থান ও দুর্বলতা চিহ্নিত করছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্যাটেলাইটে যোগাযোগ স্থাপন করে ৪০০-এর বেশি যাত্রীসহ একটি ট্রেন ছিনতাই করে গোষ্ঠীটি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, গত বছরের জুন পর্যন্ত তারা ২৭২টি মার্কিন তৈরি রাইফেল ও ৩৩টি নাইট ভিশন ডিভাইস উদ্ধার করেছে। সাম্প্রতিক বেলুচিস্তান হামলাতেও আরও অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়মিত এসব অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে দেখতে পাচ্ছি।’ এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, জো বাইডেনের আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বিব্রতকর দিন, যার ফলে ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হন এবং অস্ত্র চলে যায় তালেবানের হাতে।

জানুয়ারিতে একাধিক সমন্বিত হামলায় বিদ্রোহীরা হাসপাতাল, সরকারি ভবন ও বাজারে হামলা চালায়, বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে ৫৮ জন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত হন। পরে প্রায় এক সপ্তাহের সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় ২১৬ জন বিদ্রোহী। তাদের কাছ থেকে গ্রেনেড লঞ্চার থেকে শুরু করে এক ডজনের বেশি এম-১৬ ও এম-৪ রাইফেল উদ্ধার করা হয়। তবে এসব অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কিনা, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের তথ্যমতে, আফগানিস্তানে রেখে যাওয়া প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে আফগান বাহিনীকে দেয়া হয়েছিল ৪ লাখ ২৭ হাজারের বেশি অস্ত্র ও ৪২ হাজারের বেশি নাইট ভিশন ও নজরদারি সরঞ্জাম।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নারী সদস্যদের নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে বিদ্রোহীরা হামলার প্রভাব বাড়াতে চাইছে। আবদুল বাসিত বলেন, ‘তারা দৃশ্যমানতা বাড়াতে নারীদের কৌশলগতভাবে উচ্চ-প্রোফাইল হামলায় ব্যবহার করছে।’ পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী বিভাগের ডিসেম্বরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব নারী বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক পটভূমি থেকে এসেছেন, যাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষিতরাও রয়েছেন। এটি সন্ত্রাসী কৌশলের একটি বিপজ্জনক পরিবর্তন।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy