ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকার আশা করছে, ঐতিহাসিক এই ভোটগ্রহণ হবে শান্তিপূর্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেশের ২৯৯টি আসনে চলবে একটানা ভোট গ্রহণ।
সারা দেশে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ৬ কোটি ৪৮ লাখ, নারী ভোটার প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভোট দেওয়ার দিনটি কেবল একটি নাগরিক দায়িত্ব নয়, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের সরাসরি অংশগ্রহণের অন্যতম উপলক্ষ। ভোটাররা ভোটের মাধ্যমে শুধু পছন্দের প্রার্থী বা দলকে সমর্থনই জানান না, বরং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও ভূমিকা রাখেন।
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে না। সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে কাগজের ব্যালট ও ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো, যদিও তা বাধ্যতামূলক নয়। ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ বা মোবাইল ফোন নেওয়া নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
ভোট দিতে যাওয়ার আগে ভোটারদের নিজ নিজ ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপ, হটলাইন ১০৫, এসএমএস সেবা কিংবা ইসির ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে।
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার ভোটার তালিকায় নাম ও ছবি যাচাই করবেন। যাচাই শেষে ভোটারের আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগানো হবে। এরপর প্রিসাইডিং বা পোলিং অফিসার ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেবেন সংসদ নির্বাচনের জন্য সাদা এবং গণভোটের জন্য গোলাপি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন।