
X
কুরআন ও হাদিসে রমজানকে তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পবিত্র এই মাসে প্রত্যেক মুসল্লিদের রোজা ফরজ করা হয়। ইচ্ছাকৃত রমজানের রোজা ত্যাগ করা কবিরা গুনাহ। তবে অসুস্থতা, সফর, নারীদের মাসিক বা সন্তান প্রসবসহ বিভিন্ন কারণে অনেকেরই কিছু রোজা ছুটে যায়।
শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, এসব বৈধ কারণে ছুটে যাওয়া রোজা পরবর্তীতে কাজা করে নেওয়া ফরজ দায়িত্ব। বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী রমজান আসার আগেই আগের রমজানের কাজা রোজা আদায় করে নেওয়া।
যে ফরজ রোজা কোনো বৈধ কারণে আদায় করা সম্ভব হয়নি, তা পরবর্তী সময়ে আদায় করে নেওয়াকে কাজা রোজা বোঝায়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হলে বা সফরে থাকলে, সে অন্য দিনে সমপরিমাণ রোজা আদায় করবে।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৮৪)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, রোজা ছাড়ার অনুমতি থাকলেও তা চিরতরে মাফ হয়ে যায় না; বরং সুযোগমতো কাজা করে নেওয়াই আল্লাহর হুকুম। কাজা রোজা আদায় না করে পরবর্তী রমজানে প্রবেশ করা গাফিলতির লক্ষণ এবং দায়িত্ব অবহেলার শামিল।
হাদিসে কাজা রোজার গুরুত্ব দিয়ে হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, আমার রমজানের কিছু রোজা কাজা হয়ে যেত। আমি তা পরবর্তী শাবান মাসে আদায় করে নিতাম। (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)
হাদিস থেকে যা জানা যায়, সাহাবায়ে কেরাম ফরজ ইবাদতের ব্যাপারে কতটা সচেতন ছিলেন। দ্বিতীয়ত, রমজানের আগেই, অর্থাৎ শাবান মাসে কাজা রোজা আদায় করে নেওয়ার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হতো। এতে বোঝা যায়, নতুন রমজান আসার আগে পূর্ববর্তী রমজানের দায়মুক্ত হওয়াই উত্তম আমল।
ইসলামি ফিকহবিদদের মতে, বৈধ কারণে রোজা কাজা হলে তা যত দ্রুত সম্ভব আদায় করা মুস্তাহাব ও উত্তম। বিনা ওজরে দীর্ঘদিন কাজা আদায় না করে পরবর্তী রমজান চলে এলে তা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কেউ কেউ বলেন, এতে তওবা করা জরুরি। কারণ ফরজ ইবাদত ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব করা আল্লাহর আদেশের প্রতি অবহেলার শামিল।
রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নতির এক বিশেষ প্রশিক্ষণকাল। কাজা রোজা রেখে রমজানের আগে থেকেই নিজেকে সংযম, ধৈর্য ও ইবাদতের অভ্যাসে প্রস্তুত করা যায়। এতে শরীর-মন উভয়ই রমজানের কঠোরতা ও বরকত গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়। শাবান মাসে নবীজি (সা.) বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন এই আমল থেকেও বোঝা যায়, রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে রোজার চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরবর্তী রমজান মাস আসার আগে যতটা দ্রুত রমজানের রোজার কাজা আদায় করতে হবে। বিনা কারণে কাজা আদায়ে বিলম্ব করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। কারো ওপর যদি রমজানের রোজা কাজা থাকে, তবে সে তা আদায় করবে। অতঃপর শাওয়ালের ছয় রোজার মতো অন্যান্য নফল রোজা আদায় করবে।
কাজা আদায় না করে অন্য কোনো নফল আদায় করলেও তা শুদ্ধ হয়ে যাবে-যদিও তা অনুচিত হবে। বছরের যেকোনো দিন রমজানের রোজার কাজা আদায় করা যায়। তবে ঈদের দিনের মতো নিষিদ্ধ দিন, পরবর্তী কোনো রমজান ও মান্নাতের রোজার জন্য নির্ধারিত দিনে তা আদায় করা যাবে না। (আল-ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৩/১০৭-১১৩)
রমজান কেবল উপবাসের মাস নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উন্নতির এক বিশেষ প্রশিক্ষণকাল। কাজা রোজা রেখে রমজানের আগে থেকেই নিজেকে সংযম, ধৈর্য ও ইবাদতের অভ্যাসে প্রস্তুত করা যায়। এতে শরীর-মন উভয়ই রমজানের কঠোরতা ও বরকত গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয়।
শাবান মাসে নবীজি (সা.) বেশি বেশি নফল রোজা রাখতেন এই আমল থেকেও বোঝা যায়, রমজানের প্রস্তুতি হিসেবে রোজার চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।